ভুটান থেকে বাড়ি ফিরতে চায় কোচবিহারের পরিযায়ী শ্রমিকরা

1836

কোচবিহার: ভুটানে এখনও আটকে রয়েছেন কোচবিহার জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতির পর বেশ কয়েকমাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু নিয়মের মারপ্যাঁচে তারা এখনও বাড়িতে ফিরতে পারেননি। একদিকে খাদ্যসংকটের মধ্যে দিন কাটছে, অপরদিকে কোচবিহারে তাঁদের পরিবারের দিন কাটছে সংশয়ের মধ্য দিয়ে। এরকম পরিস্থিতিতে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর দাবি তুলেছেন তারা।

ভুটান প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে যে শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন তাঁদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন জানাতে হবে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো হবে। কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভুটানে ভারতের কনসাল জেনারেলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য ইতিমধ্যেই অবহিত করা হয়েছে। এর আগেও আমরা আমাদের জেলার মানুষকে বাইরে থেকে ফিরিয়ে এনেছি।’

- Advertisement -

কোচবিহার জেলায় লক্ষাধিক মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। রাজ্য কিংবা দেশের বাইরে কাজের উপর নির্ভর করতে হয় বহু মানুষকে। ভুটানে নির্মাণকাজের উপর নির্ভর করে সংসার চালান অনেকেই। বেশি পারিশ্রমিকের আশায় প্রতিবছর বহু সংখ্যক শ্রমিক কাজের লক্ষ্যে ভুটানে পাড়ি দেন। তবে করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে সেখানে আটকে পড়েছেন বহু শ্রমিক। তার মধ্যে ভুটানের থিংপু শহরের একটি ক্যাম্পে রয়েছেন কোচবিহারের প্রায় ২০ জনের একটি দল। তাঁদের কেউ কাঠমিস্ত্রি আবার কেউ রংমিস্ত্রি বা রাজমিস্ত্রি। ৫০০-৬০০টাকা হাজিরায় কাজ করেন তাঁরা।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি কোচবিহার ২ ব্লকের টাকাগাছের বাসিন্দা সন্তোষ বর্মন টেলিফোনে বলেন, ‘প্রায় আটমাস আগে কোচবিহার থেকে ভুটানে কাজ করতে এসেছি। করোনা পরিস্থিতির পর চেষ্টা করলেও আর বাড়িতে ফিরতে পারিনি।’ আরেক শ্রমিক দীপক সূত্রধর বলেন, ‘ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।’ পুন্ডিবাড়ির রাজমিস্ত্রি উমর আলি বলেন, ‘আমরা খাদ্যসংকটের মধ্যে রয়েছি। এখানে লকডাউন চলায় বাড়ির বাইরে বের হতে পারছি না। কোচবিহারে পরিবারের সদস্যরাও অর্থাভাবে রয়েছে।’ হাফিজুল ইসলাম নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘দ্রুত আমাদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।’