পেটের টানে এ রাজ্যে বিহারের ডুলি তৈরির কারিগররা

393

চালসা: গ্রাম বাংলায় খেত থেকে সোনার ফসল কেটে অনেকেই বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। ধান ঝাড়াই করার পর তা রাখা হয় সারা বছরের খাদ্যশস্য হিসাবে। বাড়িতে ধান মজুত করে রাখার জন্য দরকার হয় বাঁশের তৈরি ডুলির। এই সময়ই চাহিদা থাকে ডুলির। আর এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে পেটের টানে অধিক অর্থ উপার্জনের আশায় এবছরও ভিনরাজ্য থেকে এ রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন ডুলি তৈরির কারিগরেরা। জোরকদমে চলছে তাঁদের ডুলি তৈরির কাজ। তবে করোনার প্রকোপে টানা লকডাউনে মন্দা দেখা দিয়েছে এই ব্যবসায়।

স্বাভাবিকভাবেই অর্থ উপার্জন নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন কারিগরেরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বিহারের ছাপড়া জেলার মোথারামপুর এলাকা থেকে ডুলি তৈরির কারিগরেরা চালসায় এসেছেন। চালসার মঙ্গলবাড়ি বাজারে ঘর ভাড়া করে চলছে ডুলি তৈরির কাজ। তবে ডুলি তৈরি হলেও সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। বেড়েছে ডুলি তৈরির বাঁশের দাম সহ খাদ্যদ্রব্যের। এবছরের ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা।

- Advertisement -

কারিগরেরা বলেন, ‘এবছর নভেম্বর মাসের শুরুতে এসেছি। জানুয়ারির শেষের দিকে চলে যাব। তবে ডুলি তৈরি হলেও এখনও সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। লকডাউনের ফলে মানুষের হাতে টাকা নেই। তাই ডুলি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকেই। তার ওপর বেড়েছে বাঁশের দামও। গতবছর গোটা প্রতি বাঁশের ছিল ৮০-৯০ টাকা। সেই দাম এখন বেড়ে হয়েছে ১১০-১২০ টাকা। গতবছর তিন মাসে সব খরচ বাদে এক এক জন কারিগর ১৫-২০ হাজার টাকা করে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি। তবে এবছর হয়তো সেরকম হবে না। ছোট, মাঝারি ও বড় ডুলি তৈরি করা হচ্ছে। দাম রাখা হয়েছে ৪৫০-৯৫০ টাকা পর্যন্ত।’

কারিগরেরা জানিয়েছেন, বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করেন। বাপ ঠাকুরদার হাত ধরেই এই কাজ শিখেছেন তাঁরা। বছরের অন্যান্য সময়ে তাঁরা নিজের রাজ্যে খেত মজুরের কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আর্থিক মন্দা থাকলেও মনে আশা নিয়েই কাজ করে চলছেন কারিগরেরা।