চাকুলিয়া থেকে পঞ্জাবে পাড়ি দেওয়ার হিড়িক, দুশ্চিন্তায় প্রার্থীরা

113
প্রতীকী ছবি

মহম্মদ আশরাফুল, চাকুলিয়া : ভোটের মুখে চাকুলিয়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে পঞ্জাবে পাড়ি দিতে শ্রমিকদের মধ্যে হিড়িক শুরু হয়েছে। পঞ্জাবে এখন গমের ভরা মরশুম। তাই গমের ঝাড়াইমাড়াই থেকে বস্তাবন্দি করার মতো কাজে ডাক পড়েছে তাঁদের। পঞ্জাব থেকে বাসও এসেছে শ্রমিকদের নিয়ে যেতে।

তবে ভোটের কয়েক দিন আগে এত সংখ্যক শ্রমিক ভিনরাজ্যে চলে যাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে শাসক এবং বিরোধী শিবিরে। এখন ওই শ্রমিকদের ভোটের সংখ্যা বাদ রেখেই নানা অঙ্ক কষে চলেছেন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা। চাকুলিয়া আসনে ভোটের হিসেব উলটে যেতে পারে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমনকি প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিতে পারে এটি। ভিনরাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শাসক-বিরোধী একে অপরকে দোষারোপে নেমেছে।

- Advertisement -

চাকুলিয়া বিধানসভার বিজেপির সংযোজক শম্ভু মণ্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। এখানে কারখানাও নেই। গতবছর লকডাউনের সময় ভিনরাজ্য থেকে শ্রমিক গ্রামে ফিরে এলেও রাজ্য সরকার তাঁদের কাজ দিতে ব্যর্থ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর দিনাজপুর তৃণমূলের জেলা সম্পাদক একরামুল হকের বক্তব্য, লকডাউন থেকে শুরু করে এখনও অবধি র‌্যাশনের চাল, ডাল, আটা, গম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছে আমাদের সরকার। তবে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা তো শ্রমিকদের বারণ করতে পারি না।

স্থানীয় সূত্রে খরব, পঞ্জাবে এখন গমের ভরা মরশুম। গম ঝাড়াইমাড়াই করা ও বস্তা ভর্তি করে গাড়িতে বোঝাইয়ের কাজ পুরোদস্তুর শুরু হয়েছে। এজন্য প্রচুর শ্রমিকেরও চাহিদা রয়েছে। এক মাস চলা এই কাজে মাথাপিছু পরিযায়ীরা পান ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে। এই টাকা দিয়ে তাঁদের সংসার চলে।

পরিযায়ী শ্রমিক গণেশ দাস এবং রাসেদুল ইসলামদের বক্তব্য, গত এক বছর থেকে পরিবার নিয়ে আমরা কষ্টের মধ্যে রয়েছি। এলাকাতে কোনও কাজ পাচ্ছি না। সরকারের দেওয়া চাল, ডাল, আটা দিয়ে ভাতের সংস্থান হলেও বাকি সমস্যা মেটাতে চাই কাজ। এক বছর পর আবার কাজের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে পরিবারের ওপর সংকট নেমে আসবে। তাঁদের আরও বক্তব্য, ভোট একটা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু পেটের জন্য ভোটের মুখে বাইরে যেতে হচ্ছে।

চাকুলিয়ার এক ঠিকাদার সেরাজুল ইসলাম প্রতি বছর এই সময় পঞ্জাবে শ্রমিক নিয়ে যান। সেই শ্রমিকরা সেখানে ঠিকার ওপর কাজ করেন। সেরাজুল বলেন, চাকুলিয়া বিধানসভার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কমপক্ষে এক হাজার করে পরিযায়ী শ্রমিক কাজে ফিরছেন। চাকুলিয়া বিধানসভার ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বাইরে যেতে পারেন।

এদিকে চাকুলিয়ার রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, তৃণমূল, বিজেপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এই পরিস্থিতিতে ১০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ভোট না দিলে জয়ের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

তৃণমূলের প্রার্থী মিনহাজুল আরফিন আজাদ বলেন, এলাকার ২৫ হাজার শ্রমিক বাইরে কাজ করেন। কেউ যদি বাইরে যান, আমরা তাঁদের বারণ করতে পারি না। চাকুলিয়া বিজেপির প্রার্থী ডাঃ শচীন প্রসাদ বলেন, কতজন শ্রমিক বর্তমানে বাইরে রয়েছেন এবং কতজন এখন বাইরে যাচ্ছেন, সবটা নিয়ে হিসেবনিকেশ চলছে। চাকুলিয়ার প্রাক্তন বাম বিধায়ক আলি ইমরান রমজের অভিযোগ, তৃণমূল ও বিজেপির দুর্নীতির জন্য পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। এলাকায় কাজ না পেয়ে ওঁরা বাধ্য হয়ে বাইরে যাচ্ছেন।