র‍্যাশন না মেলায় পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা

261

সঞ্জয় সরকার, দিনহাটা: সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকহারে রেশন না পাওয়া ও বহু পরিযায়ী শ্রমিককে তাদের প্রাপ্য র‍্যাশন থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে  বৃহস্পতিবার দিনহাটা ২ ব্লকের কিশামতদশগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকরা। এদিন বেলা ১২ টা নাগাদ সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তরের মুল দরজায় তালা লাগিয়ে দেন শ্রমিকরা ।

এরপর বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন তারা। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান ও অফিসের কর্মীরা দীর্ঘক্ষন ভিতরেই আটকে থাকেন । অবশেষে বেলা ৩ টা নাগাদ সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্হলে পৌছে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশের অনুরোধে প্রায় তিন ঘন্টা পর পরিযায়ী শ্রমিকরা দপ্তরের দরজার তালা খুলে দেন ও প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হন। পরিযায়ী শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দীর্ঘক্ষন দপ্তর বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহান একাধিক প্রয়োজনে দপ্তরে আসা সাধারন মানুষ।

- Advertisement -

উল্লেখ্য গত প্রায় দুমাস ধরে দিনহাটা ২ ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। শ্রমিকরা ব্লকে ফিরে  দুই সপ্তাহ ধরে কোয়ারিন্টিনে ছিলেন। ফলে বর্তমানে  তাদের আর্থিক অবস্হা অত্যন্ত খারাপ। কাজও মিলছে না। তাই ব্লক প্রশাসনের তরফে তাদের বিশেষ কুপন দেওয়া হয়েছে। সেই কুপন দিয়েই তারা রেশন দোকান থেকে  চাল তুলতে পারবেন । খাদ্যদপ্তরের দিনহাটা মহুকুমা শাখা সুত্রে জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্যফেরত পরিযায়ী শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যরা মাথা পিছু দশ কেজি করে  চাল বিনামুল্যে পাবেন। পরিবারের সদস্য সংখার সমীক্ষা, প্রাপ্য চাল ও ফুড কুপন ইশ্যু করার  বিষয়গুলি ব্লক প্রশাসনের কর্মী ও আশাকর্মীরাই তদারক করেন।

কিশামতদশগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় সরকারী নির্দেশ মেনে সঠিক  হারে চাল দেওয়া হলেও, কিশামতদশগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের পরিযায়ী শ্রমিকরা সরকারী হারে চাল পাচ্ছেননা বলে অভিযোগ । পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ চাল পেলেও, পরিবারের  অন্যান্য সদস্যদের বরাদ্দ  চাল মিলছে না । এছাড়াও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক চাল পাননি বলে অভিযোগ। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা  এদিন একত্রিত হয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েতের দপ্তরে তালা লাগান ও বিক্ষোভ দেখান।

পরিযায়ী শ্রমিক মৃনাল অধিকারী, পঙ্কজ বর্মন,কল্যান বর্মন বলেন, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে খুব অসহায়ভাবে কাটাচ্ছি। সঠিক হারে খাদ্যসামগ্রীর দাবীতেই এদিন বিক্ষোভ দেখানো হয়। এবিষয়ে কিশামতদশগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান মনমোহন রায় বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ত্রান বন্টনের বিষয়ে গ্রামপঞ্চায়েত কোন ভাবেই জড়িত নয়। বিষয়গুলি সরাসরি ব্লক প্রশাসন থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিডিও এর নির্দেশ অনুযায়ী ত্রান না পাওয়া পরিযায়ীদের তালিকা ব্লক অফিসে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে দিনহাটা ২-এর  বিডিও জয়ন্ত দত্ত বলেন, এদিন যারা বিক্ষোভ দেখান তাদের বেশীরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক নন। লকডাউন ও আনলক পর্বে ব্লকের কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে প্রশাসন। যদি কোন প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিক বঞ্চিত হন তবে তাদের তালিকা ব্লকে পাঠালে তাদের বিশেষ জিআর দেওয়া হবে।