কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে নেপাল থেকে ঘরে ফিরলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

94

খড়িবাড়ি: কার্যত লকডাউন শুরু হতেই নেপাল থেকে ঘরে ফিরছেন ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের। জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি থেকে মেদিনীপুর যেতে ভাড়া গুণতে হচ্ছে ছয় হাজার টাকা। ফলে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে তাঁদের।

নেপালের কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন এলাকায় স্বর্ণলংকার ও কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কাজ করেন কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের অধিকাংশের বাড়ি হাওড়া ও মেদিনীপুর জেলায়। গত ২৯ এপ্রিল থেকে কাঠমাণ্ডু সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় দ্বিতীয় পর্যায়ের লকডাউন জারি করেছে নেপাল সরকার। স্বাভাবিকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত লকডাউন জারি হতেই পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

- Advertisement -

রবিবার সকালে পরিযায়ী শ্রমিকদের ১৪০ জনের একটি দল কাঠমাণ্ডু থেকে নেপাল সীমান্তের কাকরভিটায় এসে পৌঁছান। দুপুরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর নেপাল পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিলেও ভারতীয় সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের আটকে দেয় এসএসবি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার পর রাত ১১টা নাগাদ পরিযায়ী শ্রমিকদের ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তাঁদের দুটি বসে করে রাতেই খড়িবাড়ি তারকনাথ সিন্দুরবাল বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সকালে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে করোনা পরীক্ষা করা হয়। এদিকে রুজি-রোজগার নিয়ে আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিকরা সরকারের কাছে কাজের দাবি জানিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের এহেন বিপদের দিনেও তাঁদের কাছ থেকে একটি দালাল চক্র জনপ্রতি ছয় হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে পানিট্যাঙ্কি থেকে মেদিনীপুরে পৌঁছে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পরিযায়ী শ্রমিক পুলিন কোলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি পরিযায়ী শ্রমিক রথীন মণ্ডল জানান, দেশে কাজ না পেয়ে বিদেশে কাজ করতে এসেছেন। বেঁচে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাজের আবেদন জানান তিনি।

খড়িবাড়িতে এসে নকশালবাড়ি-মাটিগড়া বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা প্রসঙ্গে জানান, তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হলেও এই অঞ্চলের বাসিন্দা। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। খড়িবাড়ির বিডিও নিরঞ্জন বর্মণ জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।