রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : সরষে খেতে হলুদ ফুল সবে আসতে শুরু করেছে। মাঝখানে প্রায় শুষ্ক ভাটরা বিল। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও খাঁ খাঁ করছে বিল। অথচ এই সময় আসার কথা ওদের। প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসে পরিযায়ী পাখির দল। তবে এবার আর অতিথিরা আসেনি। ভাটরা বিল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ওরা। বিলের জল কমে যাওয়া ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় এবছর পরিযায়ী পাখিরা এই বিলে আসছে না বলেই ধারণা। বেআইনিভাবে ফাঁদ পেতে ও গুলি করে চোরাশিকারিরা পাখি মেরে ফেলে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা ও সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাটরা বিল বিস্তৃত। বিলের আয়তন প্রায় দশ বর্গ কিলোমিটার। বর্ষায় জলে ভরতি থাকে বিলটি। তবে এখন জল কমে যাওয়ায় পলি পড়া মাটিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এই সময়ে ভাটরায় হাজির হয় সাইবেরিয়ান পরিযায়ী পাখিরা। বিলে ছোটো মাছ ও শামুক প্রচুর পরিমাণে থাকায় শীতের কয়েক মাস এই জায়গাই বিভিন্ন প্রজাতির পাইপার, বুনোহাঁস, বালিহাঁস ও স্প্যারো প্রজাতির পাখিদের অস্থায়ী আস্তানা হয়ে ওঠে।

তবে এবছর পাখির সংখ্যা খুব কম। এ বছর বিলে জল কম থাকাতেই এমন সমস্যা বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তার ওপর চোরাশিকারির ভয় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি ফাঁদ পেতে ও গুলি করে পাখি শিকার করছে। সেই পাখির মাংস লুকিয়ে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ভাটরা বিল সংলগ্ন শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, বিলের চারধারে উঁচু খুঁটি পুঁতে তাতে জাল ঝুলিয়ে রাখে শিকারিরা। সেই জালে ধরা পড়ে বুনোহাঁস, বালিহাঁস, পাইপার, বঘেরা জাতির পাখি। সেইসব পাখির মাংস বিক্রি হয় চারশো থেকে আটশো টাকা কিলো দরে। আর টাকার লোভে অনেকেই পাখি শিকারে মেতেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, এখনও নিয়মিত ফাঁদ পাতে চোরাশিকারিরা। নানা জাতের পাখি ধরে সেগুলি চড়া দামে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এইসব পাখির মাংসের চাহিদাও থাকে আকাশ ছোঁয়া। মূলত সকালের দিকে চোরাশিকারিদের কাছে পাখির মাংস কিনতে আসেন ক্রেতারা। ফোনেই কথাবার্তা হয়ে যায়। তারপর নির্দিষ্ট সময়ে এসে সকলের অলক্ষে ব্যাগে পুরে পাখি নিয়ে যান ক্রেতারা। এলাকার তেমনই একজনের কাছে পাখির কথা বলতেই প্রথমে পরিচয় জানতে চাইলেন তিনি। তবে সাংবাদিক অনুমান করে এলাকা ছেড়ে পালালেন। এলাকার বাসিন্দারা অনেকেই এমন চোরাশিকারের বিরোধিতা করলেও তা বন্ধ হয়নি। ফলস্বরূপ কমতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা।