শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : শীত পড়তেই রাশিয়া, কাজাখস্তান থেকে ডুয়ার্সে অতিথি পরিযায়ী পাখিরা হাজির হয়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকের তিস্তা ও জলঢাকা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আস্তানা গড়ে তুলেছে তারা। ময়নাগুড়ি ব্লকে দোমোহনির তিস্তা ও রামশাই এলাকার জলঢাকা ও মূর্তির সংগমস্থল পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠেছে। পরিযায়ী পাখি দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবছর এলাকায় এই পরিযায়ীদের আগমনের সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে কিছু পাখিশিকারি। শিকারিদের হাত থেকে তাদের বাঁচানোর জন্য নজরদারি শুরু করেছেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। নজরদারি শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন বন দপ্তরের কর্তারাও।

পিনটেল, লেসার হুইসলিং, রেড গুজ, রুডি শেল্ডাক সহ বেশ কয়ে প্রজাতির পরিযায়ী পাখি প্রতিবছর শীত পড়তে না পড়তেই দোমোহনি ও রামশাই এলাকার জলঢাকা ও তিস্তায় হাজির হয়। এ বছরও চলে এসেছে তারা। গত কয়েবছর ধরে ডুয়ার্সে পরিযায়ীদের সংখ্যা বেড়েছে। পাখি দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন ওই দুই এলাকায়। একইসঙ্গে চলছে ছবি তোলাও। ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই মেদলা নজরমিনার যাওয়ার পথে এই পরিযায়ীদের দেখা পাচ্ছেন পর্যটকরা। এভাবে বেড়াতে এসে নদীর ধারে পরিযায়ী পাখির দেখা পেয়ে খুশি তাঁরাও। তবে প্রতিবছর পরিযায়ী পাখির আনাগোনার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় হানা দেয় পাখিশিকারির দল। বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও তির দিয়ে পাখিদের মেরে ফেলে তারা। পরিযায়ী পাখির মাংসের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন চা বাগান এলাকায়। তাই এই পাখিদের শিকার করে বিক্রি করা হয়।

শিকারিদের হাত থেকে তাদের বাঁচানোর জন্য শীতের শুরু থেকেই নজরদারি চালাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি পোস্টার লাগিয়ে ও লিফলেট বিলি করে চলছে সকলকে সচেতন করার কাজ। ময়নাগুড়ি রোড পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায় জানান, ফাঁদ ও তির দিয়ে পাখি শিকারের পাশাপাশি নদীতে কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ মারার ফলেও বিষক্রিয়ায় পাখিদের মৃত্যু হয়। তাই তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছেন। নজরদারির এই কাজে বন দপ্তরের সহযোগিতাও চেয়েছেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, বন দপ্তরের তরফে ওই এলাকায় পাখি শিকার বন্ধ করার জন্য নজরদারি চালানো হবে।