মজা পুকুরেই পরিযায়ী পাখির দল, অজপাড়া গাঁয়ে ঢল নামছে পর্যটকের

140

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: পুকুরজুড়েই কচুরিপানা। পুকুরের পাড়ে আগাছা ভর্তি। স্বেচ্ছায় সেপথে পা মাড়াতে নারাজ রায়গঞ্জবাসী। তবে আচমকা ওই মজা পুকুরে পরিযায়ী পাখির ঢল নামতেই অজপাড়া গাঁ  নেতাজিপল্লী যেন পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শুধু রায়গঞ্জ না, ভিন জেলা থেকেও অগনিত মানুষের নিত্য আনাগোনা শুরু হয়েছে পরিযায়ীদের টানে। এমনকি জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত ওই পুকুরে পরিযায়ীদের জলকেলী ক্যামেরাবন্দী করতে অনেককেই থমকে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক্কেবারে অন্য সাজে অজপাড়া গাঁ নেতাজীপল্লীর সেই মজা পুকুর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ১০ বিঘা এলাকা জুড়ে রয়েছে ওই পুকুর। ওই মজা পুকুরে এতদিন অবধি মাছ চাষ ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এছাড়ায় ঘন জনবসতি এলাকায় থাকা ওই পুকুর সংস্কারের দাবি উঠলেও তাতে কান দেননি পুকুর মালিক। সেই পুকুরের পাশেই রয়েছে সুবিশাল একটি ঝিল। অভিযোগ, পুর কর্তৃপক্ষের তরফেও সেই ঝিল সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঘটনায় কিছুটা হলেও ক্ষিপ্ত ছিলেন স্থানীয়রা। যদিও এলাকায় পরিযায়ীদের আগমণে সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে অনেকাংশে, মত একাংশের। তাঁদের কথায়, ওই মজা পুকুর হয়তো পাখিদের পছন্দ হয়েছে। এটা অনেকটা ‘শাপে বর হওয়ার মতোন’।

- Advertisement -

এলাকায় পরিযায়ীদের আনাগোনায় স্থানীয়রা উচ্ছ্বসিত হলেও চোরা শিকারীদের দৌরাত্মে তাঁদের ঘুম উড়েছে। তাদের কথায়, এলাকায় পরিযায়ী পাখি আসতেই চোরা শিকারীর হানা পড়েছে। রাতে চুপিসারে পাখি শিকার করছে তারা। বাধা দিতে গিয়ে রোশের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। সেক্ষেত্রে, পরিযায়ীদের সুরক্ষায় এলাকার যুবকরা একজোট হয়ে তৈরি করতে চলেছে পাখি ও পরিবেশ সুরক্ষা সমিতি।

পিপলস ফর এনিমেল টু-র সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা বলেন, ‘পরিযায়ী পাখিদের রক্ষা করার জন্য গোটা মহল্লায় দেওয়াল লিখনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণীদের হত্যা করলে কি ধরনের শাস্তি হতে পারে জানিয়ে পোস্টার লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন পাখিরা ছিল না। এবছর পরিযায়ী পাখিরা এখানে আসার ফলে রায়গঞ্জের ওই দিঘিতে বহু মানুষ ভিড় করেছেন। পরিযায়ী পাখিদের চোরা শিকারিদের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

পাখি ও পশুপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক গৌতম তান্ত্রিয়া বলেন, ‘আমরা চাই বনদপ্তরের তরফে এই পরিযায়ী পাখির গণনা শুরু হোক।’