পরিযায়ী পাখিদের আগমনে খুশি পরিবেশপ্রেমীরা

105

রায়গঞ্জ: করোনা অতিমারির জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাস। ফলে পর্যটকদের দেখা না মিললেও ভিড় বাড়ছে পরিযায়ী পাখিদের। দূর-দূরান্ত থেকে পরিযায়ী পাখিরা সেখানে আসতে শুরু করেছে। বন দপ্তরের আশা, অনুকূল আবহাওয়ার জন্য এবারও রেকর্ড সংখ্যক পাখি আসবে। ফলে খুশি পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

করোনার জেরে গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে কার্যত লকডাউন। ফলে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমেছে। বর্ষা আসতে আর দেরি নয়, তাই প্রকৃতি যেন আপন রূপে ধরা দিয়েছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর ৬৮,১৫৯টি ওপেন বিল স্টক, ৭৯৫৯টি নাইট হেরন, ১৩,০৯৪টি ইগারিট, ১০,৪২২টি কর্মোরেন্ট এসেছিল। অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি বর্ষার কারণে পক্ষীনিবাস সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে মাছ এবং শামুক পাওয়া যায়। ফলে রেকর্ড সংখ্যক পরিযায়ী পাখি এসে বাসা বাঁধে কুলিক পক্ষীনিবাসে। জুন মাসের শুরুতে পরিযায়ী পাখিদের আগমনে খুশি পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। পাখি ও পশুপ্রেমী সংস্থার সম্পাদক গৌতম তান্তিয়ার দাবি, নজরদারি বাড়ালে এবছরও পক্ষীনিবাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ লকডাউনে দূষণমুক্ত পরিবেশ পাখিদের পক্ষে অনুকূল। একটি প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক শংকর ধর বলেন, ‘পাখির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত বছর গণনা করতে ভালো লেগেছে। লকডাউনের কারণে পক্ষীনিবাসের গেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের কোলাহল ছিল না। ফলে তারা ছিল খুবই আনন্দে। অতিমারির কারণে এবছরও লকডাউন শুরু হওয়ায় পাখিদের কোলাহল বাড়তে শুরু করেছে।’ পাখিপ্রেমী চন্দ্র নারায়ণ সাহা বলেন, ‘করোনায় আমরা আতঙ্কিত। কিন্তু দূষণমুক্ত পরিবেশ পেয়ে পাখিরা খুবই আনন্দিত। আশা করি, এবছর পরিযায়ী পাখির সংখ্যা গত বছরকে টপকে যাবে।’

- Advertisement -

২০১৯ সালে ৬৫,৮৬৪টি বিল স্টক, ৮১২৪টি নাইট হেরন, ১১৯৭০টি ইগরিট এবং ৭১৩০টি কর্মোরেন্ট এসেছিল। ২০২০ সাল আগের বছরগুলির রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। বন দপ্তরের সহকারি বনাধিকারিক সিতাংশু গুপ্তা বলেন, ‘এবছর গত বছরের তুলনায় পাখি আগে এসেছে। লকডাউনের জন্য সাধারণ মানুষের প্রবেশ একদিকে বন্ধ, অন্যদিকে প্রকৃতির দূষণ কম থাকায় পাখিরা আগে আসতে পারে। এছাড়া এখানে প্রাকৃতিক ভাবে ভালো খাবার পাচ্ছে এবং আমরাও ভালো খাবার দিচ্ছি ওদের।’ তিনি বলেন, ‘পাখিরা দূরদূরান্ত থেকে আসে এখানে প্রসবের জন্য। যে পরিবেশটা থাকা দরকার সেটা এখানে আছে। বিল স্টক, নাইট হেরন, টি ইগরিট ও কর্মোরেট ছাড়াও অন্যান্য পাখি আসে। আশা করি, এবছর পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে।