Face remember

পরিবারের সদস্য ছাড়াও অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয। সেই ছোট থেকে আমৃত্যু মানুষকে ঘিরেই আমাদের জীবন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয আর এরপর চাকরিবাকরি, জীবনকে এমন সোজাসাপ্টা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা যাবে, এই দীর্ঘ যাত্রায হাজারো মানুষের সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি সবার চেহারা, রং একদম আলাদা। প্রশ্ন আসতেই পারে, কতজনের চেহারা আমাদের মনে আছে? কতগুলো মুখ আমরা মনে রাখতে পারি? বাড়ির লোকজন, স্কুল-কলেজের বন্ধু, সহকর্মী, এমনকি যে সেলেব্রিটিদের আমরা টিভিতে, সিনেমায কিংবা ইনটারনেটে দেখি, এরকম কযেশো মানুষের মুখ তো আমরা একটু ভাবলেই মনে করতে পারব। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক কি শুধু এই কযজনের মুখই মনে রাখে? ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই তা নয়। আসল সংখ্যাটা এর চাইতে অনেক অনেক বেশি।

আধুনিক যুগে আমরা শুধু প্রত্যেক্ষ বা মুখোমুখি যোগাযোগই করি না, আন্তর্জালিক যোগাযোগও করি। সেখানে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ভার্চুযাল এই যুগে এমন অনেকের সঙ্গেই আমাদের খুব সখ্য, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কখনো দেখা হযনি। তবুও তাঁদের চেহারা চিহ্নিত করতে পারে মানুষ।

মানুষের স্মৃতি ঠিক কতজন মানুষের মুখ মনে রাখতে পারে, এই প্রথম গবেষকরা সেই সংখ্যাটা বের করে দেখিয়েছেন। ১৮ থেকে ৬১ বছর বয়সী ২৫ জন মানুষের উপর করা ছোট্ট একটা সমীক্ষা থেকে এই তথ্যটা উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, আমরা গড়ে পাঁচ হাজার মানুষের মুখ মনে রাখতে পারি। শুধু তা-ই নয, সংখ্যাটা বেড়ে ১০ হাজার অবধি যেতে পারে।

সমীক্ষয় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল, যাঁদের মুখ তাঁরা মনে করতে পারছেন বা যাদের দেখে সহজে চিনতে পারবেন এরকম মানুষদের তালিকা বানাতে। পাশাপাশি কযে হাজার সেলেব্রিটির ছবিও দাওয়া হয়েছিল তাঁদের। শুরুতে অংশগ্রহণকারীরা ঝটপট নাম লিখতে থাকেন, কিন্তু শেষ পর‌্যন্ত তা কঠিন হযে পড়ে। মনে করার এই গতির উপর গবেষকরা অনুমান করেন, তাঁরা ঠিক কতগুলো মুখ স্মরণ করতে পারবেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যে মুখগুলিকে সমীক্ষায অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের চেনা মুখ বলে দাবি করছেন সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম লেখার প্রযোজন নেই। কারণ ছবি দেখে চিনতে পারা বা কারওর মুখ মনে করার সঙ্গে তাঁর নাম মনে করার বিষযটি সম্পূর্ণ আলাদা। বিজ্ঞানীদের মতে, মুখ দেখে কাউকে মনে করতে পারলেও তাঁর নাম মনে না-ই আসতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একজন মানুষের উপর অনেক কিছুই প্রভাব ফেলে। সামাজিক পরিবেশও ব্যক্তির ভেতর প্রতিফলিত হয। ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাস করা ব্যক্তি আর অল্পসংখ্যক মানুষের বসতিতে বেড়ে ওঠা ব্যক্তি, এই দুজনের মধ্যে মানুষের মুখ চেনার সামর্থ্য নিশ্চযই এক নয়।

সমীক্ষয় দেখা গিয়েছে, মুখ দেখে চিনতে পারার ক্ষমতা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন। কেউ হযতো এক হাজার মানুষের মনে করতে পেরেছেন আবার কেউ সেখানে প্রায ১০ হাজার মানুষের মুখ মনে করে ফেলেছেন। বযসের সঙ্গে মুখ মনে করতে পারার বিষযটির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সে ব্যাপারে জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানান। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্রিটেনের ইযর্ক বিশ্ববিদ্যালযে মনস্তত্ত্ববিদ রব জেনকিনস বলেন, আমাদের গবেষণার মূল ফোকাস ছিল, প্রকৃতপক্ষে মানুষ কত সংখ্যক চেহারা মনে রাখতে পারে। কতজনের মুখ আমরা মনে রাখতে পারছি, এই ব্যাপারটা সর্বোচ্চ কোনো বযসসীমার সঙ্গে জড়িত কিনা তা জানা দরকার। হযতো আমরা সারাজীবন ধরে বিভিন্ন মানুষের মুখের ছবি সংগ্রহ করতে করতে চলি। আবার এমনও হতে পারে, একটা বযসের পর আমরা কিছু মুখ ভুলতে শুরু করি। তিনি বলেন, এছাড়া মানুষ কথা বলার সময তাঁর চেহারার দিকে ঠিক কতটা মনোযোগ দিচ্ছে। চেহারা মনে পড়াটা এর উপরেও নির্ভর করে।