ভ্রাম্যমাণ মিনি রেস্টুরেন্টের খাবারে মন মজাচ্ছেন মৃদুল

212

রায়গঞ্জ: করোনা সংক্রমণের জেরে দীর্ঘ লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ছে অনেক মানুষ। বাধ্য হয়ে অনেককে ফিরে আসতে হচ্ছে নিজের শহরে বা গ্রামে। পেটের দায়ে লাজলজ্জা দূরে সরিয়ে রেখে উচ্চশিক্ষিত ছেলে মেয়েরা কেউ চালাচ্ছেন টোটো, কেউ বিক্রি করছেন সবজি, ফলমূল। আবার কেউ রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করছেন। গত বছর লকডাউনে কর্মহীন হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করা মৃদুল রায়(২৮)। ব্যাঙ্গালোরে একটি ফাইভ স্টার হোটেলে সেফের কাজ করতেন তিনি। লকডাউনে হোটেলের কাজ চলে যাওয়ায় কী করবে ভেবে উঠতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ার বোগ্রামে দিদির বাড়ির পাশে ছোট টিনের ঘরে সংসার বাঁধেন মৃদুল ও তাঁর স্ত্রী রাখি। এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন জমানো টাকায় টোটো কিনে ভ্রাম্যমাণ মিনি রেস্টুরেন্ট তৈরি করবেন। গত জানুয়ারি মাসে শুরু করেছেন এই ভ্রাম্যমান রেস্টুরেন্ট।

স্বামী স্ত্রী মিলে অভিনব রেস্টুরেন্টে একদিকে খাদ্যপ্রেমীদের মন মজিয়েছেন। সেই সঙ্গে করোনা সচেতনতার প্রচারও চালাচ্ছেন। রায়গঞ্জের কর্ণজোরায় জেলা প্রশাসনিক ভবন লাগোয়া বিনোদন পার্কের সামনে বিকেল হলেই সুসজ্জিত টোটোয় মিনি রেস্টুরেন্ট নিয়ে হাজির হন মৃদুল। চিকেন পকোড়া, চিকেন কাবাব, ডায়নামাইট চিকেন, পিৎজা থেকে শুরু করে যাবতীয় চিকেনের আইটেম মেলে সেখানে। লকডাউনে এমন রেস্টুরেন্টে মুখরোচোক খাবার পেয়ে খুশি খাদ্যরসিকেরা। গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলছে তাদের এই রেস্টুরেন্ট। ক্রেতা সাধারণ যাতে করোনা মহামারি থেকে দূরে থাকেন সেজন্য দোকানের বোর্ডে লেখা থাকছে মাস্ক পড়ুন সতর্ক থাকুন।

- Advertisement -

মৃদুল বলেন, ‘কাজ হারিয়ে প্রথমে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম ঠিকই। তবে লাজলজ্জা দূরে সরিয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় টোটো কিনে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করি। বেঁচে থাকতে হলে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। লকডাউনে আমার মতো অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে এটাই বলার মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে নিজেদের ভালো লাগার কাজটি পেশা হিসেবে নিয়ে এগিয়ে চলুন।’ মৃদুলবাবুর স্ত্রী রাখিদেব সিংহ বলেন, ‘লজ্জা হতাশা, দুঃখকে জয় করে যারা এগিয়ে যেতে পারবে তাঁরাই তো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।’