নাগরিক কনভেনশনে দলীয় নেতার দুর্নীতির অভিযোগ শুনলেন পর্যটনমন্ত্রী  

405

শিলিগুড়ি : নাগরিক সভা ডেকেছিলেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। মন্ত্রীর ডাকা সেই নাগরিক সভার তাল কাটল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়া ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠতেই। অবৈধভাবে জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সভার প্রথমেই সেই সুর বেঁধে দিয়েছিলেন নাগরিক সভার আহ্বায়ক গৌতম দেব।

কিন্তু মঞ্চে বসে তাঁকে শুনতে হল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। দলের দার্জিলিং জেলা কমিটির সদস্য সৌমিত্র কুন্ডু (সদা) কীভাবে তাঁর বাহিনী নিয়ে তাঁদের জমি দখল করতে বুলডোজার চালিয়েছেন, তা নির্ভয়ে কয়েকশো মানুষের সামনে সরাসরি তুলে ধরলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী শ্যামসুন্দর আগরওয়াল। তৃণমূলের কিছু কর্মী রে-রে করে ওঠায় চেষ্টা করেও তিনি সব কথা বলে উঠতে পারেননি। যথারীতি তাঁর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তবে আকস্মিক এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হয় মন্ত্রীকে। অস্বস্তি কাটাতে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক করতে গৌতমবাবু বলেন, দুর্নীতিমুক্ত এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নাগরিক সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যাও উঠে এসেছে। বেআইনি কাজকে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

- Advertisement -

লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ে পর কাটমানি নেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমানির অভিযোগ তুললেও কাটমানি বিরোধী বিক্ষোভে ইতি পড়েনি। শিলিগুড়িতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, তা নিয়ে এতদিন আলোচনা ছিল আড়ালে। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় দীনবন্ধু মঞ্চে নাগরিক সভায় জনসমক্ষেই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠল।

মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এদিন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামসুন্দর আগরওয়াল বলেন, আপনি বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু আপনার পার্টির লোক দিনের পর দিন আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। সৌমিত্র কুন্ডু সহ কয়েকজন মিলে আমাদের উৎখাত করতে চাইছে। আমরা আদালতে গিয়ে মামলা জেতার পরেও অত্যাচার থামেনি। তিনি জানান, গত বছর ১ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন মারা যান। সেই পরিস্থিতিতে ১০ সেপ্টেম্বর সৌমিত্র কুণ্ডুর নেতৃত্বে বুলডোজার দিয়ে তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। গৌতম দেবের প্রতি তাঁর আর্জি, এদের সরান। না হলে শিলিগুড়ি জঞ্জালমুক্ত হবে না। স্বাভাবিকভাবেই এমন অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়তে হয় মন্ত্রীকে। কিন্তু তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়ে শ্যামসুন্দরবাবু অভিযোগ করেন, এ ব্যাপারে এর আগেও মন্ত্রীকে তিনি সবকিছু জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। যদিও গৌতমবাবুর বক্তব্য, সেই সময় বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। কিন্তু এবার ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।

মজার কথা হল, এদিন প্রথম থেকেই মঞ্চের পাশে ছিলেন সৌমিত্র কুণ্ডু। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। পরে অবশ্য তিনি বলেন, ৩৫ বছর ধরে ওনারা ভাড়া দিচ্ছেন না। তাছাড়া আমরা জমি প্রোমোটারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। প্রোমোটার কী করছেন, তা আমি কী করে বলব। দলের একটা অংশই আমার বিরুদ্ধে ওপেন ফোরামে বলিয়েছে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। রেগুলেটেড মার্কেট, চম্পাসারি, সেবক রোডের একাধিক জমি কেলেঙ্কারিতে এর আগেও সৌমিত্রবাবুর নাম জড়িয়েছে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে দলের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।