জিৎবাহানের দুই মেয়ের খোঁজ রাখে না কেউ

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : রায়পুর চা বাগানের প্রয়াত চা শ্রমিক জিৎবাহান মুন্ডার অসহায় দুই মেয়ে বুলবুলি এবং রাখির আর কোনো খোঁজ রাখেন না রাজ্যের মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। অপুষ্টিজনিত রোগে জিৎবাহান মারা যাওয়ার পর দলে দলে নেতা-মন্ত্রীরা রায়পুর বাগানের শ্রমিক আবাসে গিয়ে জিৎবাহানের বৃদ্ধ বাবা ফাগু মুন্ডাকে আশ্বস্ত করেছিলেন- বুলবুলি এবং রাখির জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হবে।

ফাগু মুন্ডা বাগানে ছোট্ট মুদির দোকান করে দুই নাতনিকে নিয়ে কোনোরকমে দিন গুজরান করছিলেন। বছরদুয়েক এভাবেই চলেছে। বুলবুলি এবং রাখি দুজনেই পাঁচিরাম নাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়শোনা করত। ২০১৮ সালের ১৮ অগাস্ট ফাগু মুন্ডা মারা যান। তারপর বুলবুলি এবং রাখি অথৈ জলে পড়ে যায়। পুঁজির অভাবে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাভাবে পড়শোনার পাট চুকিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় অনাথ এই দুই মেয়ে। চার মাস হল তারা রায়পুর চা বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছে। বুলবুলিকে বাতাসিতে নিয়ে গিয়েছেন তার মামা উদয় মুন্ডা। পড়শোনার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বুলবুলি আর পড়তে পারেনি। মামার আর্থিক অবস্থাও খুবই দুর্বল। নবম শ্রেণির ছাত্রী বুলবুলির সঙ্গে একজন শ্রমিকের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাখিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাগডোগরায়, তার এক পিসির বাড়িতে।

- Advertisement -

রায়পুর চা বাগানে গিয়ে এই কাহিনি বিস্তারিত জানা গেল। বাগানের শ্রমিকরা অভিযোগ করলেন, নেতা-মন্ত্রীরা একসময়ে দলে দলে এসে বলেছিলেন তাঁদের দাযিত্ব তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। সেই নিষ্ঠার এই নমুনা। জিৎবাহানের অপুষ্টিজনিত রোগে মৃত্যুর পর রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, গৌতম দেবরা গিয়েছিলেন তাঁর শ্রমিক আবাসে। সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী সহ সিপিএমের একাধিক নেতাও রায়পুর চা বাগানে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁরা বুলবুলি ও রাখির পাশে আছেন।

বর্তমান লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরিও এসেছিলেন। বিরোধীরা জিৎবাহানের ছবি সহ পোস্টার করে প্রচারও করেছিলেন। আজ আর কোনো নেতা রায়পুর চা বাগানের পথ মাড়ান না। বুলবুলি এবং রাখির পিসি দীপালি মুন্ডা জানালেন, ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রাখি, বুলবুলিরা না থাকায় খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু আমরা অসহায়। আমাদের সংসারই তো চলে টেনেটুনে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ওদেরকে কাছে রাখতে পারলাম না।