মন্ত্রীর এলাকায় রাস্তা বেহাল, ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে

145
মন্ত্রীর খাস তালুকে বেহাল রাস্তা

তপন কুমার বিশ্বাস,গোয়ালপোখর: খোদ মন্ত্রীর খাস তালুকে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। কিষনগঞ্জের ক্যালটেক্স মোড় থেকে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের শ্রীপুর সীমান্ত চৌকি পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৩০ কিমি। ওই রাস্তা দিনাজপুর রোড নামে পরিচিত। ওই রাস্তার প্রায় তিন কিমি বিহারের মধ্যে পড়লেও বাকি অংশ উত্তর দিনাজপুর জেলার পিডবলুডি(রোডস)-র অধীনে রয়েছে। যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রীতিমতো মারণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ওই রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে নানা জায়াগায় হাঁটু পর্যন্ত গর্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এলাকায় মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তা মেরামত না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রের দাবি, ভৌগলিক দিক থেকে ওই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রাস্তা দিয়ে বিএসএফের কিশনগঞ্জ হেড কোয়ার্টার থেকে শ্রীপুর, কোকড়াদহ, তিনগাঁও, চাকলাগড়, নারগাঁও, সোনামতি সীমান্ত চৌকিতে বিএসফ কর্মীরা যাতায়াত করে। এছাড়া ধরমপুর, দেবীগঞ্জ নামে দুটি বড়ো হাট রয়েছে এই এলাকায়। পাশাপাশি ধরমপুর, লোধন, ডাঙ্গিপাড়া, কিচকটোলা স্কুলে যাওয়া আসা করতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও গোয়ালপোখর বিডিও অফিস, থানা, পশু হাসপাতাল, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভূমি সংস্কার দপ্তরসহ একাধিক দপ্তর থাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা মহঃ হাফিজুল হক, সৈদুর রহমানরা জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে মন্ত্রীসভা গঠিত হলে এলাকার বিধায়ক মন্ত্রী সভায় স্থান পান। তারপরেও অন্যান্য রাস্তা নিয়ে তেমন সমস্যা না হলেও এই রাস্তাটি সংস্কারে মন্ত্রী উদাসীন। মন্ত্রী উদ্যোগী হলে আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হত না।

এবিষয়ে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আগে রাস্তাটি পিডব্লুডি রক্ষণাবেক্ষণ করত। কিন্তু, পিডব্লুডি রোডর্সের হাতে তুলে দেওয়ায় ওনেক সময় লেগে গেছে। ওই দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তা দেখে ‘ডিটেইলড পোজেক্ট রিপোর্ট’(ডিপিআর) তৈরি করেছে। আর তারপর থেকেই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সময় দিতে হবে। মানুষের কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারছি। তারপরেও ওই দপ্তরের আধিকারিকদের বলেছি, এই মুহূর্তে রাস্তা সম্পূর্ণ মেরামতি সম্ভব না হলেও চলাচলের উপযুক্ত করে তোলা হোক। আশারাখি, দ্রুতই রাস্তাটি চলাচলের উপযুক্ত করে তোলা হবে।’

এবিষয়ে পিডব্লুডি(রোডস)-র উত্তর দিনাজপুর জেলার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমরা ওয়াকিবহাল। লকডাউনের কারণে বালি পাথর সরবরাহ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তারমধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব রাস্তাটি চলাচলের যোগ্য করে তোলা যায়। বর্ষা পার হলেই ওই রাস্তা পুরোপুরি সংস্কার করা হবে।’