বাবার লালসা থেকে বাঁচতে শিলিগুড়িতে আশ্রয় নাবালিকার

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : বাবার লালসার হাত থেকে বাঁচতে পড়াশোনা ছেড়ে কোচবিহার থেকে পালিয়ে শিলিগুড়িতে আশ্রয় নিল এক নাবালিকা ও তার মা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বাবার নাম শুনলেই আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকছে একরত্তি মেয়ে। রবিবার বিকেলেই কোচবিহার থেকে পালিয়ে শিলিগুড়িতে এসেছে ওই দুজন। শিলিগুড়ির পাতিকলোনিতে এক পরিচিতের বাড়িতে রয়েছে তারা। শিলিগুড়ি থেকেই দার্জিলিং জেলা লিগ্যাল এইড ফোরামের সহায়তায় ই-মেলের মাধ্যমে কোচবিহারের পুলিশ সুপার, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারের কাছে বাবার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নাবালিকা। পুলিশের পাশাপাশি জেলা শিশুসুরক্ষা সমিতির কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকেই উত্তর আসেনি বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোচবিহারের পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বালকরকে একাধিকবার ফোন, এসএমএস করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোচবিহার জেলার শুকটাবাড়ির বাসিন্দা ওই নাবালিকা স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্রী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নাবালিকার বাবা তার উপরে যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে নাবালিকার উপরে চলত অত্যাচার। বিষয়টি নাবালিকা তার মাকে একাধিকবার জানিয়েছিল। কিন্তু প্রথমে তা মানতে চাননি তিনি। পরে একদিন নিজেও বিষয়টি লক্ষ করেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় নাবালিকার মাকে বেধড়ক মারধর করা হত বলে অভিযোগ। প্রতি রাতেই পাশের ঘরে মেয়ের উপরে অত্যাচার চালাত অভিযুক্ত। বাবার ভয়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তার। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওই নাবালিকার। দিনের পর দিন চোখের সামনে মেয়ের উপরে স্বামীর অত্যাচার দেখে ভেঙে পড়েন ওই গৃহবধূ। এরপরেই বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে মা ও মেয়ে। রবিবার সকালে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মেয়েকে নিয়ে সোজা শিলিগুড়িতে চলে আসেন তিনি। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি জানান দার্জিলিং জেলা লিগ্যাল এইড ফোরামের সম্পাদক অমিত সরকারকে।

- Advertisement -

গোটা ঘটনা জানতে পেরেই লিগ্যাল এইড ফোরামের সদস্যরা ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন। এরপরেই তার বয়ানের ভিত্তিতে ই-মেলের মাধ্যমে কোচবিহারের পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়। অমিতবাবু বলেন, আমরা রবিবার রাতে খবর পেয়ে ওই নাবালিকা ও তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। সে আমাদের সবটা জানায়। ওর বয়ানের ভিত্তিতেই আমরা ই-মেল মারফত সমস্ত জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। তবে এখনও কোনো পক্ষই উত্তর দেয়নি। আমরা আরও দুদিন দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করব।