উত্তরবঙ্গের সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোট টার্গেট মিম-এর

598

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : সদ্য শেষ হওয়া বিহার বিধানসভা ভোটে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা মিম-এর পাঁচটি আসন জয়ের পর থেকে এরাজ্যের বিধানসভা ভোটে মিম ফ্যাক্টর নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। মিমের এই সাফল্য মূলত এরাজ্য ঘেঁষা সীমাঞ্চল নামে পরিচিত জেলাগুলোতে লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে প্রতিবেশী রাজ্যের নির্বাচনে মিম কিন্তু একা লড়াই করেনি। বরং মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছে। এতে জোটসঙ্গী বিএসপি-ও একটি আসন জেতে। তবে খাতা খুলতে পারেনি অপর জোটসঙ্গী আরএলএসপি। বিহার ভোটের ফলাফলের পর মিম প্রধান আসাদদুদ্দিন ওয়াইসি এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছেন।

বিহার ভোটের অনেক আগে থেকেই এরাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও সংগঠন গোছানোর কাজে নামে মিম। এজন্য দিল্লি এবং হায়দরাবাদ থেকে মিমের একাধিক ছোট ছোট প্রতিনিধিদল গোপনে ঘুরে গিয়েছে ডুয়ার্সে।   তারা বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষিত এবং প্রভাবশালী মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ করেছে তেমনি কথা বলেছে মুসলমান অরাজনৈতিক সংগঠনগুলির নেতৃত্বের সঙ্গেও। সমর্থন আদায়ে স্থানীয় ইমাম, মৌলানা এবং মোয়াজ্জিমদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন আসাদদুদ্দিন ওয়াইসির দলের প্রতিনিধিরা। জলপাইগুড়ি জেলা ইমাম সংগঠনের সভাপতি মৌলানা মহম্মদ উজালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইমাম ও মোয়াজ্জিমরা অরাজনৈতিক মানুষ। সব রাজনৈতিক মতামতের মানুষকে নিয়ে তাঁদের কাজ। ফলে আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ যোগাযোগ করলেও তাতে লাভ হবে না। সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগে থেকে কয়েক দফায় মিমের প্রতিনিধিদের এই এলাকা ঘুরে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য এবং বিহার ভোটের সাফল্য মিলে বিহার লাগোয়া উত্তরের জেলাগুলোর পাশাপাশি অসম ও ভুটান ঘেঁষা উত্তরের তিন জেলা কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এগোচ্ছে মিম। এক্ষেত্রে বিহার মডেলের দিকেই ঝুঁকতে চাইছে দলটি।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, বিহার মডেলে ডুয়ার্সে তপশিলি এবং আদিবাসী ভোট পেতে জোট গড়তে চাইছে মিম নেতৃত্ব। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি চা বলয় সহ সমগ্র ডুয়ার্সে সক্রিয় সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী সংগঠনগুলির কাছেও জোটের প্রস্তাব দিচ্ছেন মিমের প্রতিনিধিরা।  প্রকাশ্যে না বললেও অনেকেই স্বীকার করেছেন মিমের প্রস্তাব পাওয়ার কথা। মিমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন ডুয়ার্সের এক নেতা। তিনি জানান, কোচবিহারে সিতাই, শীতলকুচি ও তুফানগঞ্জের মতো অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী দিতে চায় মিম। এছাড়া আদিবাসী এবং অন্য সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গে জোট সম্ভব হলে আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ও মাদারিহাট এবং জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা, মালবাজার এবং রাজগঞ্জ আসনে প্রার্থী দিতে পারে তারা। দীর্ঘদিন ধরে ভুটান সীমান্তঘেঁষা ডুয়ার্সের চা বলয়ে সংগঠন গড়ে কাজ করছে ডুয়ার্স মিল্লাতে ইসলামিয়া সোসাইটি। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন মিমের প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন তৃণমূলকে সমর্থন জানালেও গত জুলাই মাসে তারা তৃণমূলের থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মহম্মদ কাদের আলি বলেন, গত এক বছর ধরে মিমের তরফে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং কয়েক দফায় আলোচনাও হয়েছে।  গত সপ্তাহে তৃণমূলের তরফে কলকাতা থেকে আসা পিকের টিমের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়। আমরা তাদের কাছে এক মাসের মধ্যে মুসলমান ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গড়া সহ চারটি দাবি জানিয়েছি। ওঁরা পনেরো দিন সময় নিয়েছেন। যদি আমাদের দাবি পূরণ না হয় তাহলে আমরা মিমের সঙ্গে জোট করেই মুসলমান ও আদিবাসীদের পক্ষে লড়াই চালাব। তবে শুধু আদিবাসী এবং মুসলমান সংগঠনই নয়, সারা রাজ্যে তপশিলি ভোট পেতেও চেষ্টা চালাচ্ছেন মিমের ভোট ম্যানেজাররা। সেক্ষেত্রে বিহারের মতো এখানেও বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা চলছে। বিএসপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি জীবন মজুমদার বলেন, আমাদের দলের জোটের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী বহেনজি। এখনও আমাদের কাছে তেমন কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে আমরা বিধানসভা ভোটে লড়াই করব। সেক্ষেত্রে দল যদি জোট গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তাকে নিয়ে মাঠে নামব। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মিম প্রার্থী দিলে সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে রাজ্যের শাসকদল। এনিয়ে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশকুমার সিং বলেন, কেউ কেউ জল ঘোলা করতে চাইছে আবার কেউ কেউ ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। এদের কারও উদ্দেশ্য আখেরে সফল হবে না।