বাজারে এঁচোড় বস্তাবন্দি করে দিন কাটছে শিশুদের

247

কামাখ্যাগুড়ি : দারিদ্র‌্য গ্রাস করছে শৈশব। আর্থিক কষ্ট ঘোচাতে ছোট থেকেই শ্রমের বিনিময়ে পয়সা রোজগার করে পরিবারের সাহায্যে করছে ওরা। কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেটে সপ্তাহে দুদিন বসা হাটে-বাজারে কাঁঠাল ও এঁচোড় কাগজে মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করাই ওদের কাজ। এই কাজ করে উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয় তারা। এমনকি স্কুলের টিফিন উপার্জিত টাকা দিয়ে কেনে। অন্য শিশুদের সঙ্গে এদের মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সকালে হাতে বই, খাতা ও কলম থাকার বদলে কাজ খুঁজতে হাটে যেতে হয় ওদের। তাই স্কুলের পড়া সম্পূর্ণ করার বদলে হাটবাজারের কাজের প্রতিই য়েন বেশি মনোযোগ ওদের। তবে শিশুদের দিয়ে এভাবে কাজ করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার শ্রম দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার শ্যামল রায়চৌধুরি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেটে এলাকার ষাটঘর কলোনি এবং বিশঘর কলোনির অধিকাংশ পরিবারই বিপিএল তালিকাভুক্ত। দারিদ্র‌্য কাটাতে পরিবারের বাচ্চাদেরও নামতে হচ্ছে কাজে। ওই এলাকার বেশ কিছু কিশোর হাটে এঁচোড় কাগজ মুড়ি দেওয়া এবং বস্তাবন্দির কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। রবিবার ও বুধবার হাট বসে। এই হাটে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল এবং এঁচোড় আমদানি হয়। এই বাজারের বেশিরভাগ এঁচোড় ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। এঁচোড়কে সতেজ রাখতে কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে ট্রাকবোঝাই করা হয়। সেই ট্রাক পাড়ি দেয় ভিনরাজ্যে। এঁচোড় কাগজে মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করতে বস্তা প্রতি ৩০ টাকা মেলে ওই কিশোরদের। এই কাজ করে হাটের দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা উপার্জন করে ওই কিশোররা। কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেটে এঁচোড়ের হাট শুরু হয় ভোর চারটে নাগাদ। কাজ ধরার তাগিদে প্রবল ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে শীতের রাতেও ভোর চারটার আগেই হাজির হয় তারা। হাটে এঁচোড় কাগজ মুড়ি ও বস্তাবন্দি করার কাজ ধরা নিয়ে কিশোরদের মধ্যে রীতিমতো চলে প্রতিযোগিতা। আগে এলে আগে কাজ ধরার সুযোগ মিলবে। আশ্বিন মাস থেকে বৈশাখ পর্যন্ত প্রায় সাতমাস ধরে কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেট হাটে এঁচোড় কেনাবেচা হয়।

- Advertisement -

সুপার মার্কেট নেতাজি কলোনি এলাকার বাসিন্দা বছর এগারোর বিজয় সূত্রধর জানাল, এই কাজে যে পরিমাণ টাকা আসে তার বেশিরভাগ টাকাই বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয় সে। কিছু পয়সা নিজের কাছে রেখে স্কুলের টিফিনে খরচ করে। বিজয় নেতাজি কলোনি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বিজয়ের মতোই ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রশান্ত বর্মন, দয়াল বিশ্বাস সহ ওই এলাকার আরও কিছু বালক এঁচোড় বস্তাবন্দি করে অর্থ উপার্জন করে। তবে একজন পূর্ণবয়স্ক শ্রমিকের বদলে ছোটদের দিয়ে কম পয়সায় কাজ করানোর অভিযোগ উঠছে।

প্রশান্ত বর্মনের বাবা নকুল বর্মন বলেন, আর্থিক টানাটানির সংসার। বাবা হিসাবে ছেলের চাহিদা মেটানোই সম্ভব হয় না। বরং ছেলে নিজেই পরিস্থিতি অনুভব করে এই কাজ করে যে টুকু টাকা পায় তা আমাদের হাতেই তুলে দেয়। কিছু টাকা নিজের কাছে রাখে স্কুলের টিফিনের জন্য।