তলপেটে যন্ত্রণা সয়ে রুপোজয়ী মীরা

ছবি: সংগৃহীত

টোকিও : স্বপ্ন আজ সত্যি। রুপো নিয়ে অলিম্পিক থেকে দেশে ফিরেছেন মীরাবাই চানু। আর ফেরার পর থেকেই উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভাসছেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভারতীয় ভারোত্তোলক। তবে লক্ষ্যে পৌঁছোনোর কাজটা সহজ ছিল না মীরাবাইয়ে জন্য। প্রতিযোগিতায় নামার আগের রাতে তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণায় কাঁবু হয়ে পড়েছিলেন চানু। চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল তাঁর কোচ বিজয় শর্মার কপালে। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে মনের জোরকে সম্বল করে ইভেন্টে অংশ নেন চানু। তারপর বাকিটা মিরাকল মীরাবাই।

কী করে তা সম্ভব হল? চানুর কোচ বিজয় শর্মার কথায়, সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। ইভেন্টের আগের দিন শুক্রবার বিকেলেও পুরোদমে ও অনুশীলন করেছিল। তখনও কোনও সমস্যা টের পাইনি। পরে রাতের দিকে চানুর তলপেটে যন্ত্রণা শুরু হয়। পুরো কোচিং টিম এমন পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নতুন প্ল্যান সাজাতে হয়েছিল। ঘাবড়ে গিয়েছিলেন চানুও। সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে টোকিও গেমসের রুপোজয়ী ভারোত্তোলক বলেন, আমি চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কী করব ভেবে উঠতে না পেরে কোচকে সব জানাই। ম্যাচের তখন ২৪ ঘণ্টাও বাকি ছিল না। এই সময় এমন অসহ্য যন্ত্রণা। এমনটা কেন আমার সঙ্গে হয়, সেই প্রশ্ন মনে জেগে উঠছিল। শেষে চাপমুক্ত হতে তলপেটের যন্ত্রণা নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানান চানু। তাঁর কথায়, যন্ত্রণা ভুলতে পরের দিনের ইভেন্ট, নিজের পরিকল্পনা নিয়ে মনঃসংযোগের চেষ্টা শুরু করেছিলাম। তাতে কাজও হয়েছিল।

- Advertisement -

তবে তাঁর অসুস্থতা গোটা দলকে গোটা দলকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল ম্যাচের দিন চানুর পারফরমেন্সে। বিজয় শর্মা জানান, স্ন্যাচ এবং ক্লিন ও জার্ক মিলিয়ে চানু ২০২ কেজি ভারোত্তোলন করে। যা সোনাজয়ী ভারোত্তোলক হৌ ঝিহুইয়ে থেকে ৮ কেজি কম। অন্য যেকোনও দিনে চিনা প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে বেশি ওয়েট লিফটিংয়ের ক্ষমতা চানুর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে ইম্ফলে নিজের বাড়ি পৌঁছোতে প্রতিশ্রুতি মতো মীরাবাইয়ে জন্য বিনামূল্যে পিৎজা পাঠাল ডমিনোজ। পিৎজা সংস্থার এই আন্তরিকতায় মুগ্ধ চানু তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।