দু‘দশকেও ইউজিসির স্বীকৃতিহীন মিরিক কলেজ

111

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : পঠনপাঠন চলছে একুশ বছর ধরে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এ মিরিক কলেজের নাম নথিভুক্তই হয়নি। আজ পর্যন্ত হয়নি ন্যাকের মূল্যায়ন। কারণ কলেজের কোনও নিজস্ব জমিই নেই। যে জমির ওপর কলেজ চলছে, তার মালিক পর্যটন দপ্তর। জমি হস্তান্তর না করেই কলেজ তৈরি করে ফেলেছে জিটিএ। তাই ২১ বছর ধরে ইউজিসির কোনওরকম আর্থিক অনুদান পাচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে থমকে গিয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

২০০০ সাল থেকে মিরিক কলেজের পঠনপাঠন শুরু হয়। শুরুতে মিরিক ডাকবাংলো এলাকায় ব্লক প্রশাসনের কয়েকটি ঘরে ক্লাস নেওয়া হত। পরবর্তী সময়ে সেখানেই খানিকটা পরিকাঠামো উন্নয়ন করে রাজ্য সরকার। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তখনও জমির কোনও কাগজ ছিল না। এরপর জিটিএ মিরিক পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩ একর জমিতে নতুন কলেজ ভবন তৈরির কাজ শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে নতুন কলেজ ভবনে চলছে পঠনপাঠন। তবে এখনও পর্যন্ত কলেজের নামে কোনও জমি হস্তান্তর হয়নি। দার্জিলিং জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জিটিএর ভুলেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কলেজ তৈরির আগেই জমি হস্তান্তর করতে হত। তৎকালীন জিটিএ কর্তারা সেই নিয়ম মানেননি।

- Advertisement -

বর্তমানে কলেজে শুধুমাত্র কলা বিভাগের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। প্রয়োজন থাকলেও বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ এখনও চালু করা যায়নি। বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের কোনও বিষয়ে পড়াশোনার জন্য স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের সমতলের কলেজগুলিতে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের অনুদান পেতেও বহু কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। একই কারণে অধ্যাপকরাও বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের জন্য ইউজিসির অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মিরিক কলেজের জমি রাজ্য সরকারের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হাতবদল হবে। শিক্ষা দপ্তরের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেই কাজে কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের কাজ কেন ২১ বছরেও করা গেল না? কোথায়, কেন আটকে আছে ফাইল? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কারও কাছ থেকেই। সমস্যা সমাধানের দায়িত্বে থাকা প্রতিটি পক্ষই দায় ঠেলেছে অন্যের ঘাড়ে।

কলেজের অধ্যক্ষ নিমা লামা জানান, কলেজে নতুন ভবন তৈরি, পুরানো ভবন সংস্কার, ছাত্রাবাস তৈরি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজকর্ম, খেলাধুলার মানোন্নয়ন সহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর লক্ষ-লক্ষ টাকা অনুদান দেয় ইউজিসি। সেইসব অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউজিসিতে কলেজের নাম নথিভুক্ত থাকতে হয়। তার জন্য পদ্ধতি মেনে ইউজিসির কাছে কলেজের নামে থাকা জমির কাগজ জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক। যেহেতু তাঁদের কাছে জমির কোনও কাগজ নেই, তাই তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি এবং অনুদান পাচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, ইউজিসির অনুদান পেলে সহজে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা যেত। অনেক আগেই জিটিএ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জমি হস্তান্তরের জন্য আবেদন জানিয়েছি। হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কলেজ পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান পুনম বিশ্ব জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে যেখানে যেখানে আবেদন করতে হয় তাঁরা সেটা করেছেন। মিরিক ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ভিক্টর সাহার বক্তব্য, ব্লক অফিস থেকে সমীক্ষা করে বছর দেড়েক আগেই ফাইল জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কোনও নির্দেশ আসেনি। নির্দেশ এলেই পদক্ষেপ করব। অথচ জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুমন সহায়ের দাবি, তিনি বিষয়টি জানেন না। তাঁর আশ্বাস, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

জিটিএর চেয়ারম্যান অনীত থাপার কথা, বিমল গুরুংয়ের আমলে ভুলটা হয়েছিল। সমস্যা মিটিয়ে যাতে সুষ্ঠুভাবে কলেজ পরিচালিত হতে পারে তার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আশা করছি জমির সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।