সেতুর বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা, প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ

364

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া: গুয়াবাড়িতে প্রধান রাস্তায় থাকা তিস্তা ক্যানালের পাকা সেতু ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেহাল। কংক্রিটের সেতু থেকে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। রেলিং ভেঙে গিয়েছে। ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে জরাজীর্ণ সেতুতে ওঠার মুখে সিমেন্টের ব্লক দিয়ে রুদ্ধ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণ তো দূর অস্ত, সেতু মেরামতির জন্য প্রশাসনিকভাবে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

সেতুর বেহাল দশার কারণে একাধিক গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। ফাঁসিদেওয়া থেকে হেচারি মোড় হয়ে হেটমুড়ি সিংহীঝোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, প্রশাসনের উদাসীনতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভগ্নপ্রায় সেতু দিয়ে প্রতিদিন টোটো, মোটরবাইক যাতায়াত করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে সেতু মেরামত করতে হবে।

- Advertisement -

ক্যানাল তৈরির পর হেচারী মোড়ের সঙ্গে ফাঁসিদেওয়াকে যুক্ত করতে কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হয়েছিল। হেটমুড়ি সিংহীঝোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তারবান্ধা সহ একাধিক গ্রামের মানুষ এই সেতু এবং ৩১ডি জাতীয় সড়ক পেরিয়ে ঠাকুরপাড়া, দাসপাড়া হয়ে বিডিও অফিস সহ নানা গন্তব্যে যান। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তৈরির কয়েক বছরের মধ্যেই সেতু বেহাল পড়েছে।

এদিকে, সেতু বেহাল থাকায় বড় গাড়ি সেতু দিয়ে যেতে পারে না। ফলে অনেকে ঘোষপুকুর কিংবা রাঙ্গাপানি হয়ে বিকল্প পথে প্রায় ১০ কিলোমিটারের বেশি ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু মানুষ সময় বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এজন্য বাসিন্দারা প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। একাধিকবার বিভিন্ন মহলে সেতু সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু আজও সংস্কার হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া অঞ্চল সভাপতি কর্ণধর বাইনের অভিযোগ, সেতু বেহাল থাকায় তারবান্ধা, অন্তুজোত সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যা হচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও, কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তিনি সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

তারবান্ধার অন্তুজোতের বাসিন্দা মণি রায় জানান, সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ক্যানালের জল বাড়লে যেকোনও সময় পথচারীদের নিয়ে সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। অবিলম্বে সেতু মেরামতের দাবি জানিয়েছেন মণিবাবু।

ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহমজুমদার জানিয়েছেন, সেতুটি তিস্তা বিভাগ তৈরি করেছিল। সেটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।