বিহারের নিখোঁজ যুবক রায়গঞ্জ থেকে উদ্ধার

337

রায়গঞ্জ: প্রায় দু’মাস পর ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা। ছেলেকে কাছে পেয়ে মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেও ছেলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। রায়গঞ্জ পুরবাসস্ট্যান্ডে রবিবার সকালে বিহার থেকে বৃদ্ধা মা ছেলেকে নিতে আসলে হুলস্থল কান্ড বেধে যায়। শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের চেষ্টায় মায়ের হাতে ছেলেকে তুলে দেওয়া হয়।

এদিন সকালে রায়গঞ্জ পুরবাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, বছর ৩৫-এর শ্যাম ঠাকুর নামে এক যুবক গামছা পরে ঘুরছে। কোনও সময় বৃষ্টিতে ভিঁজছে। তার সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, তার বাড়ি বিহারের মধুবনী জেলার তিরুতা গ্রামে। প্রায় দু’মাস ধরে সে নিখোঁজ ছিল। কখনও দিল্লি, আবার কখনও হরিয়ানা। কীভাবে এখানে এসেছে জানা নেই তার। বাসস্ট্যান্ডের হকাররা জানায়, প্রায় পাঁচদিন ধরে জল খেয়ে আছে। কোনও কিছু দিলেও খাচ্ছে না। তারা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শ্যাম জানায়, বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত কিছু খাবে না। এখানেই থাকবে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বৃদ্ধা মা কপেলেশ্বরী ঠাকুর ভাই হেমন্ত কুমার ও ছেলে পবন ঠাকুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতেই শ্যাম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মা ছেলেকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন মা। কিন্ত ক্ষোভ উগরে দেন। সে বাড়ি যাবে না বলে জানায়। শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য ও ঝুমকি পাল শ্যামকে বুঝিয়ে গাড়িতে তুলে দেন। নিখোঁজ হওয়ার এতদিন পর মা ও পরিবারের সদস্যরা আসায় শ্যাম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বারবার গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

- Advertisement -

শ্যামের মামা হেমন্ত কুমার জানান, তিন বন্ধু মিলে এক সঙ্গে ব্যবসা করলেও তার লাভ্যাংশের টাকা তারা না দেওয়ায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। অনেক খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না। রায়গঞ্জ থেকে কৌশিকবাবু আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই আমরা আজ নিতে এসেছি। আমাদের দেখেইও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতদিন পর আসায় ওর রাগ হয়েছে।

সমাজকর্মী কৌশিক ভট্টাচার্য জানান, গত দু’দিন আগে বাসস্ট্যান্ড থেকে একজন ফোন করে জানায় একজন ছেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে। আমরা এসে ওর সঙ্গে কথা বলি। কিছুতেই খাওয়াতে পারিনি। খুব কষ্ট করে ওর থেকে একটি ফোন নম্বর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আজই বিহার থেকে বৃদ্ধা মা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। তাদের হাতে তুলে দিলাম। খুব ভালো লাগছে। মা কপেলেশ্বরী জানান, ছেলেকে খুঁজে পাবো কোনো দিনই ভাবিনি। এতদিন পর আমাদের দেখে ওর রাগ হয়েছিল। বাড়ি গেলে ঠিক হয়ে যাবে সব।