ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের থেকে প্রতিশ্রুতির ললিপপ খাবেন না

92
সভামঞ্চ থেকে ছোবল দেওয়ার অভিনয় করে দেখাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সংবাদচিত্র

ফাঁসিদেওয়া, ১৪ এপ্রিলঃ নির্বাচনের আগে নাম না করে রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে কটাক্ষ করলেন মিঠুন চক্রবর্তী। বুধবার ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রের লিউসিপাকড়িতে সভা করতে এসে বিজেপি নেতা মিঠুন বলেন, প্রতিশ্রুতির ললিলপ খাবেন না। যদিও, সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মহাগুরুও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে সিনেমার ডায়লগ বলে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই কারণে জনসভা থেকে সিনেমার ডায়লগ “আমি জল ঢোড়াও নই, বেলে বোড়াও নই, আমি জাত গোখরো, এক ছোবলে ছবি,” অভিনয় করে দেখালেন তিনি। অন্যদিকে, লিউসিপাকড়ির জনসভা থেকে ক্ষমতায় আসার পরই রাজ্যের সব হাসপাতাল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, কিষান সন্মান নিধি যোজনা, আয়ুস্মান ভারত, মেয়েদের গাড়িতে যাতায়াত করা, পড়াশুনা ক্ষমতায় এলে বিনামূল্য করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। নিজেই ললিপপ নেওয়ার কথা না বললেও, কার্যত সাধারণ মানুষকে ললিপপ ধরিয়ে দিলেন মিঠুন। আর তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

এদিন দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাসের লিউসিপাকড়িতে হেলিকপ্টারে করে এসে পৌঁছান মিঠুন। সেই দৃশ্য দেখার জন্য রীতিমতো প্রচুর মানুষের ঢল নামে। তাঁদের মধ্যে উচ্ছ্বসিত বিজেপি সমর্থকরাও ছিলেন। দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধমুখী হলেও, জনসভায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি অনেককেই মানতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। প্রচুর কর্মী-সমর্থকদের মুখে মাস্ক ছিল না। সঠিকভাবে সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। মেডিকেল-ফাঁসিদেওয়া রাজ্য সড়কের পাশেই হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। ফলে, রাজ্য সড়কেও ব্যপক যানযট সৃষ্টি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী। হেলিকপ্টার থেকে নেমে মিঠুন চক্রবর্তী সোজা লিউসিপাকড়ি বাজারে রাঙ্গাপানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পৌঁছে যান। ছোট মাঠে এদিনের জনসভায় প্রায় গোটা মাঠ ভরে গিয়েছিল। এই সভা ঘিরে মেলার রূপ নিয়েছিল লিউসিপাকড়ি। একইসঙ্গে নাম না করে রাজনৈতিক দলের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ব্যপারে মহাগুরু বলেন, ভোট এলেই জনতাকে ললিপপ দেওয়া শুরু হয়। এই ললিপপ খাবেন না। ভিক্ষার পাত্র হবেন না, আর্জি মহাগুরুর।

- Advertisement -

বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারংবার রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। পরবর্তীতে র‍্যাশন দূর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তিনি তোপ দেগেছেন। র‍্যাশন নিয়ে রাজ্যে কোটি টাকার ব্যবসা চলছে। নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিন। একশো গ্রাম চালের হিসেব বুঝে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এরপরও যদি কেউ দূর্নীতি করে, তবে তাঁর অভিনীত সিনেমা দেখিয়ে দিতে বলেন। সিনেমাতে সব দেখানো আছে, এরপর না শুনলে এক ফোনে ফাটাকেষ্ট পৌঁছে যাবে বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা। এরপরও যদি কেউ বুঝতে না চান তাহলে তাঁর সিনেমা একবার দেখিয়ে দিতে বলেন। রাজ্যে সবার অধিকার সমান থাকতে হবে, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সব জেনারেল হাসপাতালের জেনারেল বেড শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করা হবে। আমার ছেলে এসি ঘরে জন্মাবে, আর গরীব ঘরের বোনেরা গরমে কষ্ট করবে, তা হবে না। সবার সমান অধিকার হবে। আমি নিজে জেলায় জেলায় গিয়ে এসি লাগাবো। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ৩ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কিষান সন্মান নিধি চালু করতে দেয়নি। ক্ষমতায় আসার পর সরকার গঠন করার আগে সকল কৃষককে প্রকল্পের আওতায় এনে ১৮ হাজার টাকা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে। আমি যা বলি তা করে দেখাই। এই কথা বলতেই কর্মী-সমর্থকদের চেয়ারে বসে থাকা সকলেই হাততালি দিতে থাকেন।

মিঠুন চক্রবর্তীর মন্তব্য অনেকেই বলেন, আমি সুবিধাবাদী। আমার কোনও সুবিধা দরকার নেই। ভগবান যা দিয়েছেন, তাতেই আমার ঘাড় কুজো হয়ে গিয়েছে। আমি সকলকে অধিকার পাইয়ে দিতে এসেছি। আর তা আমি দিয়েই ছাড়ব। মেয়েদের ১৮ বছর হলেই, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আশ্বাসের রাজনীতি মিঠুন চক্রবর্তী করে না বলে মহাগুরুর দাবি। ৩ হাজার টাকা করে বয়স্কদের পেনশন চালু করা হবে। এই এলাকায় অনেক চা বাগান আছে। আগে অনেক আন্দোলন হয়েছে৷ সেই আন্দোলনের সময় এখন শেষ। নূন্যতম মুজুরি ৩৫০ টাকা করে দেওয়া হবে। রাজ্যে বিদ্যুতের দাম কমানো হবে, প্রতিশ্রুতি দেন মিঠুন। তিনি বলেন, কীভাবে কমবে, আমি জানি না কমাতেই হবে। আশ্বাসের রাজনীতি আমি করি না। আমি যা বলি তা করে দেখাই। আমার পিছনে অনেক বড় হাত আছে। আমি যে নির্দেশ পেয়েছি তাই বলছি। একইসঙ্গে, উস্কানিমূলক রাজনীতিতে পা না দেওয়ার আর্জি জানান। শীতলকুচির ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, হিংসার বলি হয়েছেন পাঁচজন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এগুলো চলবে না। হবে না মানে, হবে না। হুশিয়ারি দিয়ে মিঠুন বলেন, এমন করলে কাউকে ছাড়া হবে না। চাঁদে গেলেও, সেখান থেকে খুঁজে আনা হবে। এরপর সেই বিতর্কিত সিনেমার ডায়লগ মঞ্চে অভিনয় করে দেখান তিনি।