অন্ডালের কোলিয়ারিতে ধস, ইসিএল’কে দায়ী করলেন বিধায়ক

290
উদ্ধারকাজ চলছে।

দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের জামবাদে ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসন এলাকায় শনিবার ভোর তিনটে নাগাদ ধস নামে। ধসের ফলে শাহানাজ বানু নামে বছর ৪০-এর এক মহিলা মাটির নীচে চাপা পড়েন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এই খবর লেখা পর্যন্ত ওই মহিলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এদিন ঘটনার অনেক পরে ইসিএলের আধিকারিকরা এলাকায় আসেন। তাঁদের ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ৬ ঘন্টারও বেশি সময় পরে ইসিএলের তরফে উদ্ধার কাজ শুরু হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

- Advertisement -

খবর পেয়ে পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি এলাকায় যান। তিনি ঘটনার জন্য ইসিএলকে দায়ী করেন, সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। এলাকায় ধর্নায় বসেন তিনি। বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘ইসিএল শুধু কয়লা উত্তোলনের কথা ভাবে। সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। গত দু বছর ধরে পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও এখনও মেলেনি কোনও ঘর। মানুষ মরে গেলেও ইসিএলের কোনো চিন্তা নেই।‘ মাটির নীচে চাপা পড়া শাহনাজ বানুকে উদ্ধার করার দাবি জানান বিধায়ক। যদিও ইসিএলের তরফে বলা হয়েছে, ওই এলাকাটি পরিত্যক্ত। তবুও মহিলাকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।

অন্ডালের কোলিয়ারিতে ধস, ইসিএল'কে দায়ী করলেন বিধায়ক| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিধায়ক।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ডালের কাজোড়ার জামবাদ এলাকাটি ইসিএল ৫ বছর আগে পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করেছে। এলাকায় রয়েছে ইসিএলের বেশ কিছু কোয়ার্টার। সেগুলিতে বসবাস করেন বেশ কয়েকটি পরিবার। শনিবার ভোর তিনটে নাগাদ ওই এলাকায় ধস নামে। সেই ধসে ভেঙ্গে পড়ে বেশকয়েকটি আবাসন। তারমধ্যে একটি আবাসনে থাকা শাহানাজ বানু নামে এক মহিলা মাটির নীচে চাপা পড়ে যান।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, আবাসনে ওই মহিলা ছাড়াও থাকতেন তাঁর স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ধসের সময় অন্যরা বাড়ি ছেড়ে বের হতে পারলেও ওই মহিলা আটকে পড়েন ও মাটির নীচে চাপা পড়ে যান। ধসের কারণে এলাকায় তৈরি হওয়া গর্ত ক্রমশ বড় হতে থাকে। সেই কারনে আশপাশের বেশকিছু আবাসনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সকাল এগারোটার পরে এলাকায় পৌঁছোন ইসিএলের আধিকারিকরা৷ বাসিন্দারা ঘটনার জন্য ইসিএলের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসনগুলিতে রয়েছেন। ইসিএল তাঁদের কোনও পুনর্বাসন দেয়নি। মাটির নীচে চাপা পড়া ওই মহিলাকে উদ্ধার ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।