রাজবংশী বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনে বিধায়ক

422

শালকুমারহাট: রাজবংশী ভোট ব্যাংককে টার্গেট করে বুধবার শালকুমারহাট এলাকায় জনসংযোগ সারলেন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তাঁকে এদিন এক রাজবংশী দলীয় কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনও করতে হয়। কিন্তু বিধায়ককে কাছে পেয়ে এদিন বাসিন্দাদের একাংশ সরকারি আবাসন নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।

প্রায় দু’বছর থেকে গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ সরকারি আবাসন পাচ্ছেন না। অনেকেই ভাঙাচোরা ঘরে দিন কাটাচ্ছেন। এমনকি এদিন যে বাড়িতে বিধায়ক দুপুরের ভাত খান, সেই পরিবারের ঘরবাড়ির কাঠামোও ভালো নয়। আর বাসিন্দাদের প্রশ্নের উত্তরে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই যাতে সরকারি আবাসন তাঁরা পেয়ে যান সেই প্রতিশ্রুতি দেন সৌরভ চক্রবর্তী।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হল শালকুমারহাট। এদিন ছিল শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে দ্বিতীয় দফায় ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। সেখানে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় হয়। সরকারি নানা প্রকল্প নিয়ে প্রায় ১৪টি কাউন্টার খোলা ছিল। সারাদিনে ৩ হাজার দু’শো বাসিন্দা নানা প্রকল্পের জন্য আবেদন জমা করেন। এদিন এই কর্মসূচিতেই প্রথমে শালকুমারহাটে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে। তিনি লাইনে লাইনে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে এলাকায় আসেন দলের আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী।

দুয়ারে সরকারের পাশাপাশি তৃণমূলের বঙ্গধ্বনি যাত্রা কর্মসূচির জন্য বিধায়ক এদিন শালকুমারহাটের মন্ডলপাড়ায় বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি যান। এই এলাকায় রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট। তাই রাজবংশী ভোট ব্যাংকের কথা ভেবে বিধায়ক এদিন গ্রামেরই দীপক রায় নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সারেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। দীপক রায় তৃণমূল কংগ্রেসেরই কর্মী। অথচ তাঁর ঘরবাড়ির অবস্থা ভালো নয়। তিনি বিধায়ককে বলেন, ‘এতদিনেও সরকারি ঘর পেলাম না।’ একইভাবে ঘর না পাওয়ার কথা বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন উত্তম কার্জি, কমলা বর্মন প্রমুখরা।

এপ্রসঙ্গে বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী পরে বলেন, ‘এদিন অনেকেই আমাকে সরকারি ঘর না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা প্রায় দু’বছর থেকে ঘর পাচ্ছেন না। তবে যারা এই গ্রামে ঘর পাওয়ার উপযুক্ত, আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করব যাতে সবাই ঘর পায়।’