বেপরোয়া মোটর বাইক চালকদের শায়েস্তা করতে ‘ভ্রাম্যমান লোক আদালত’

80

বালুরঘাট: বেপরোয়া মোটরচালক তথা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের শায়েস্তা করতে অভিনব উদ্যোগ নিল বালুরঘাট ট্রাফিক দপ্তর। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বালুরঘাটের জাতীয় সড়কের ধারেই ভ্রাম্যমান লোক আদালতের ব্যবস্থা করলো ট্রাফিক পুলিশ। শুক্রবার বালুরঘাট শহরের প্রবেশের মুখে রঘুনাথপুর এলাকায় প্রায় ৩০ জন ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি, পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে তাদের সচেতনও করা হয়েছে।

প্রতিবছর নিয়ম করে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হয় রাজ্য জুড়ে। সমস্ত জায়গায় পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালানো হয় বিস্তর। এমনকি ট্রাফিক দপ্তরের তরফে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। মোটর চালকদের পথ দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও অহরহ ছোটখাটো পথ দুর্ঘটনা থেকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ছবি নজরে পড়ে থাকে। তবু এতকিছুর পরেও অনেক বেপরোয়া মোটরচালক সিটবেল্ট ছাড়া চার চাকার গাড়ি অথবা হেলমেটবিহীন অবস্থায় মোটর বাইক ও স্কুটি দেদারে রাস্তায় ছুটিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই মোটরবাহনের প্রয়োজনীয় তথ্যের কাগজ সঙ্গে না রাখার কারণে সমস্যায় পড়ছে হামেশাই। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের তরফে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ জরিমানা করা হয় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের। তৎক্ষণাৎ তাদের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ মোটর বাহনের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা নেওয়া হয়। পরে ব্যাংকে গিয়ে জরিমানা অর্থ চালান হিসেবে জমা দিয়ে ট্রাফিক দপ্তরে এসে রশিদ দেখালে তার পরেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মুক্তি মেলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের। কিন্তু রাস্তার ওপরেই লোক আদালত বসানোর ফলে সেই জায়গায় জরিমানা অর্থ প্রদান করতে পারছেন মোটর চালকরা। এরফলে তাদের কিছুটা হয়রানির শিকার কম হতে হচ্ছে।

- Advertisement -

এই বিষয়ে বালুরঘাট ট্রাফিক পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বাবুল হোসেন বলেন, ‘জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আমরা লোক আদালতের আয়োজন করতে পেরেছি। এদিন রঘুনাথপুর এলাকায় রাস্তার পাশে লোক আদালতের আমরা ব্যবস্থা করেছিলাম। অনেকেই সিট বেল্ট ছাড়া চারচাকা গাড়ি চালাচ্ছেন। আবার অনেকে হেলমেট ও প্রয়োজনীয় কাগজ ছাড়া মোটর বাহন চালাচ্ছেন। এদিন ট্রাফিক আইন লংঘন করার অপরাধে তাদের তৎক্ষণাৎ জরিমানা করা হয়। কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না নিয়ে চালান কেটে লোক আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। লোক আদালতে টাকা জমা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তারা মুক্ত হতে পারছেন। লোক আদালত তাদের অপরাধের মান বিবেচনা করে জরিমানা অর্থে ছাড়ের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি, ট্রাফিক দপ্তর ও জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের তরফে তাদের মধ্যে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। পথ দুর্ঘটনা কমাতে আমরা আগামীতেও এমন লোক আদালত বসানোর কথা পরিকল্পনা করছি।’

এই বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদিকা কুসুমিকা দে মিত্র বলেন, ‘পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে চারিদিকে এত প্রচার সত্বেও মাঝেমধ্যেই পথ দুর্ঘটনার খবর চোখে আসছে। তাই শুধু ট্রাফিক আইন লংঘন করলে জরিমানা করা নয়। তাদের মধ্যে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করাই আমাদের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, মোটর বাহন চালকদের জীবন বাঁচাতে ও তাদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করছি। এদিন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী সকলকেই হেলমেট, সিট বেল্ট পরা ও মোটরবাহনের উপযুক্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

প্রশাসনের এমন উদ্যোগের বিষয়ে রঘুনাথপুর এলাকার এক মোটর বাইক চালক শিবনাথ সরকার বলেন, ‘এখন শহরের একাধিক রাস্তা চওড়া হচ্ছে। বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকা থেকে হিলি যাওয়ার পথ দ্বিগুণ প্রশস্ত হয়েছে। রাস্তা চওড়া হওয়ার ফলে বিভিন্ন জায়গায় পথদুর্ঘটনা ঘটছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বাইক চালকরা হেলমেট পড়ছেন না অথবা বাইক চালক হেলমেট পড়লেও পেছনে বসা আরোহী হেলমেট পড়াতে অনীহা প্রকাশ করছে। এর ফলে পথ দুর্ঘটনা ঘটলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগের ফলে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে অনেক সচেতন হবে সকলে।’