ভাঙনের মুখে পলাশবাড়ির মডেল শ্মশানঘাট

265
পলাশবাড়িতে ভাঙনের মুখে মডেল শ্মশানঘাট

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়িতে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের সনজয় নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে মডেল শ্মশানঘাট।

দু’বছর আগে ফালাকাটার প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারীর বিধায়ক তহবিলের টাকায় ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের ধারে এই শ্মশানঘাট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি লাগাতার বৃষ্টিতে জলের তোড়ে শ্মশানঘাটের বোল্ডার বাঁধের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে এই শ্মশানঘাট নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দ্রুত বাঁধ সারাই সহ শ্মশানঘাট রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কতৃপক্ষ অবশ্য জরুরি ভিত্তিতে শ্মশানঘাট রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে বিধায়ক তহবিলের ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পলাশবাড়ির এই শ্মশানঘাট তৈরি করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় ‘শেষ খেয়া’। এই শ্মশানঘাটের চারপাশে পাকা প্রাচীর তৈরি করা হয়। ভেতরে আছে বসার সুব্যবস্থা। উপরে রয়েছে শেড। শ্মশান চত্বরে রয়েছে পিএইচই-র পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা। শ্মশানের প্রাচীরে রয়েছে মহাপুরুষদের বাণী ও ছবি। এছাড়াও আছে ফুল বাগান। আলিপুরদুয়ার জেলায় কোনও গ্রামীণ এলাকায় এরকম ঝাঁ চকচকে শ্মশানঘাট নেই। এজন্য একে ‘মডেল শ্মশানঘাট’ বলা হয়।

সবরকমের পরিকাঠামো থাকায় দিনরাত এখানে শবদাহ করা যায়। এই শ্মশানঘাট হওয়ায় উপকৃত পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু সনজয় নদীর পাড় ভাঙনের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই শ্মশানঘাট এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা নদী ভাঙনের তীব্রতায় উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, নদী ভাঙনের জেরে এই স্বপ্নের শ্মশানঘাট থাকবে কী না সন্দেহ। এই শ্মশানঘাটের সামনে নদীতে হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি শ্মশানঘাট রক্ষা করার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। নিউ পলাশবাড়ির আরেক বাসিন্দা রতন বর্মন বলেন, এই শ্মশানঘাট নদীগর্ভে চলে গেলে এলাকার মানুষের খুব সমস্যা হবে।

স্থানীয় শিলবাড়িহাট নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তরণী রায় বলেন, জাতীয় সড়কের পাশে এই মডেল শ্মশানঘাট ভাঙতে শুরু করেছে। বোল্ডার বাঁধ ভেঙেছে। বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়বে। তাঁর অভিযোগ, সবাই সব দেখছে। অথচ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। এই শ্মশানঘাট রক্ষার দাবিতে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, এই শ্মশানঘাট চত্বর যেভাবে ভাঙছে তা নিয়ে এলাকার মানুষ তাঁদের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি লক্ষ্য করেছি এবং প্রশাসনিক স্তরে এনিয়ে আলোচনাও হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে ওই শ্মশানঘাটে বোল্ডার বাঁধ তৈরি করা হবে।