বাংলা দখলে জেলায় জেলায় সভা করবেন মোদি

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা : বাংলা দখলের লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে এ রাজ্যে জেলায় জেলায় জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, একুশে বাংলায় ক্ষমত দখলে দল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর সেজন্য দলের সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই বাংলা জয়ের কাজে নামানো হবে। সংখ্যায় তাঁরা কত হবেন, তা এখনই কেউ বলতে পারছেন না।

দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সফরসূচি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর তিনি এ রাজ্যে আসছেন। এরপরে আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। ইতিমধ্যে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে বহিরাগত তত্ত্বকে হাতিয়ার করেছে। তবে তৃণমূলের প্রচার উড়িয়ে খুব শীঘ্রই সারাদেশের নানা প্রান্ত থেকে বাছাই করা আরএসএস নেতাদের এ রাজ্যে ভোটের কাজে আনছে বিজেপি। তাঁদের অধিকাংশই ছড়িয়ে পড়বেন জেলায় জেলায়। তাঁদের বুথস্তরে বিজেপি নেতারা ছাড়াও সাহায্য করবেন আরএসএসের প্রচারকরা। ওই স্থানীয় বাসিন্দাদের হাত ধরেই সর্বত্র তাঁরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবেন।

- Advertisement -

তৃণমূলের বহিরাগত তত্ত্বকে উড়িয়ে দলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের মতো তৃণমূলও তো সর্বভারতীয় দল। ওরাও তো অনেক রাজ্যের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তখন এ রাজ্য থেকেই নেতারা সেখানে প্রচারের জন্য গিয়েছেন। তাহলে আজ আমাদের নেতাদের দেখে ভয় পেয়ে বহিরাগত বলে চিৎকার করছেন কেন? বাংলার মানুষও বহু জায়গায় চাকরি করছেন। তাঁদের কি কেউ বহিরাগত বলে তাড়িয়ে দেন? এ রাজ্যেও তো বহিরাগতরা চাকরি বা ব্যবসা করেন। হারের আতঙ্কে এই ধরনের স্পর্শকাতর মন্তব্য করা ঠিক নয়।

ইতিমধ্যে বিজেপি টেন্ডারের মাধ্যমে তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে ভোট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য নিয়োগ করেছে। তারা তথ্য সংগ্রহের কাজে বাংলার গ্রাম গ্রামান্তরে নেমে পড়েছে। এই বুথওয়াড়ি তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করে সেই জায়গায় কোন নেতা উপযুক্ত হবেন তা ঠিক করা হবে। এদিকে, নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীও রাজ্য কমিটির ঘর গোছানোর কাজ সারছেন। বিজেপিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি পদে সবসময়ে আরএসএসের লোকেদের বসানো হয়। সম্প্রতি পাঁচটি অঞ্চলের পর্যবেক্ষকরা যে রিপোর্ট দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী এবার রাজ্যেও কিছু সাংগঠনিক পদে রদবদল আসন্ন।