ভোটের মুখে মোদির বিহার প্যাকেজ,আগামী বছর মিলতে পারে বাংলায়

1094

নয়াদিল্লি: বিহারে বিধানসভা ভোটের মুখে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় প্যাকেজ ঘোষিত হতে চলেছে। তার মধ্যে আছে বেশকিছু কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা এবং নতুন প্রকল্প ঘোষণা। আগামী ১০ দিন ধরে কাজটি করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্যে আছে নতুন এলপিজি পাইপলাইন থেকে রেললাইন প্রতিষ্ঠা, নমামি গঙ্গে থেকে শুরু করে নতুন জাতীয় সড়ক এবং সেতু নির্মাণ ছাড়াও একগুচ্ছ প্রকল্প।

ঘোষণার ফাঁকে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতাও নির্দিষ্ট আছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা ভোট। বলিউড অভিনেতা তথা বিহারের ভূমিপুত্র সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে কার্যত বিহার অস্মিতার ডাক দিয়েছে জেডিইউ ও বিজেপি। তেমনই লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিনের বিরুদ্ধে বিহার রেজিমেন্টের বাহাদুরি প্রচার করে জাতীয়তাবাদী হাওয়া তোলা হচ্ছে। এছাড়া ইতিমধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও যে বিহার বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে তা স্পষ্ট।

- Advertisement -

মনে করা হচ্ছে, আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার জন্যও এমন প্যাকেজ দিল্লি থেকে ঘোষণার সম্ভাবনা ষোলোআনা। বিজেপির এক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতায় এলে বাংলায় পরিকাঠামো উন্নয়ন করার ওপর জোর দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা আগেই কলকাতা এসে বলে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও অতীতে তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, আসন্ন নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের সীমাহীন দূর্নীতি অন্যতম প্রচারের হাতিযার হবে বিজেপির। পাশাপাশি বিকল্প সুশাসনের মডেলও তুলে ধরা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে তার সুফল পাবে বাংলা। এই প্রসঙ্গে ২০১১ সালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা মনে করাচ্ছেন, ২০১১ সালে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট ক্ষমতায় আসার পর মনমোহন সিংয়ের সরকার বাংলার পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নে ৮৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। তা দিয়ে জঙ্গলমহল সহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রচুর উন্নতি করা হয়েছিল। একই ভাবে গ্রামোন্নয়ন খাতে পাঁচ বছরে বাংলাকে প্রচুর টাকা দিয়েছিল দিল্লির কংগ্রেস সরকার। রেলপ্রকল্পেও তখন পশ্চিমবঙ্গ প্রচুর বরাদ্দ পেয়েছে।

শুক্রবার দু-দিনের সফরে পাটনা পৌঁছেছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং বিহারে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। ফড়নবিশ বলেছেন, যে সরকার মোদি সরকারের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবে, সেই সরকারই বিহারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তালিকা পাঠাননি বলে বাংলার কৃষকরা পিএম কিষান প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বিহারে শাসক শিবিরে ক্ষমতায় ফেরার তীব্র প্রত্যাশার মধ্যে জেডিইউ-এলজেপি দ্বন্দ্ব বারবার অস্বস্তিতে ফেলছে এনডিএকে। জোটের মুখ হিসেবে নীতীশ কুমারের নাম ঘোষণা করা সত্ত্বেও এলজেপি নেতা রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ যেভাবে নিজেকে বিহারের ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন, তাতে ক্ষিপ্ত জেডিইউ নেতৃত্ব। দলের একাংশ মনে করছে, চিরাগ পাসোয়ানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেপথ্যে বিজেপির মদত রয়েছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা জোটের মুখ হিসেবে নীতীশ কুমারের নাম ঘোষণা করার পরও চিরাগ যেভাবে নিজেকে কুরসির দাবিদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, তাতে গেরুয়া শিবিরের লোহা দিয়ে লোহাকে আঘাত করার কৌশল স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে এলজেপিকে প্যাঁচে ফেলতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাঝির হাম (এস) এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলিত ভোট ব্যাংক কবজা করতে মরিয়া নীতীশ। অন্যদিকে সদ্য আরজেডি ত্যাগী তথা একদা লালুপ্রসাদ যাদবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রঘুবংশ প্রসাদ সিংকে দলে নিয়ে রাজপুত ভোটব্যাংকের দখল নেওয়ারও ছক কষছেন নীতীশ।