মহমেডানের সপ্তবাণে বিদ্ধ ভবানীপুর

মহমেডান : ৭ (ফৈয়াজ ২, মার্কাস ২, ব্র‌্যান্ডন, নিকোলা, জসকরণপ্রীত) – ভবানীপুর : ০

কল্যাণী : একদিকে লিগে টিকে থাকার লড়াই। তার ওপর গ্রুপ পর্যায়ে হারের জ্বালা। ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ভালো ফুটবল খেলার জন্য মহমেডানের ফুটবলারদের মোটিভেশনের অভাব ছিল না। শনিবার সবটাই কাজে লাগালেন শেখ ফৈয়াজ, মার্কাস জোসেফরা। কল্যাণী স্টেডিয়ামে শংকরলাল চক্রবর্তীর দলকে ৭-০ ফলে উড়িয়ে কলকাতা লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছে স্বস্তিতে মহমেডান।

- Advertisement -

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য সাদা-কালো কোচ আন্দ্রে চেরনিশভের উদ্বেগ বাড়িয়েছিলেন জোড়া গোলের মালিক মার্কাস। ৪ মিনিটে ভবানীপুরের গোলরক্ষক অর্নেন্দু দত্তের ভুলে পেনাল্টি পায় মহমেডান। কাজে লাগাতে পারেননি এই বিদেশী ফরোয়ার্ড। ২৮ মিনিট নাগাদ নিজের ভুল শুধরে নিলেন। বক্সের মাঝে দাঁড়িয়ে মার্কাসের নেওয়া শট কোনওরকমে পা দিয়ে আটকান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে ফৈয়াজের ভলি এগিয়ে দেয় দলকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভবানীপুরের রক্ষণ গুড়িয়ে দিল মহমেডান। ৪৩ মিনিটে ফৈয়াজের হেড লিড দ্বিগুণ করে। সংযুক্ত সময়ে এক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল মার্কাসের।

এই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভবানীপুর। তারই ফল ৪৭ মিনিটে ব্র‌্যান্ডনের গোল। ৪ গোলের লিড পেয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মার্কাসকে বসিয়ে নিকোলা স্টোজানোভিচকে নামান চেরনিশভ। ৬৯ মিনিটে চলতি বলে দর্শনীয় ভলিতে স্কোরবুকে নাম তুললেন এই সার্বিয়ান। খেলার শেষ দিকে সপ্তম বাণটি মারলেন তরুণ স্ট্রাইকার জসকরণপ্রীত সিং। এদিনও অধিনায়কের দায়িত্ব ছিল ফৈয়াজের কাঁধে। যোগ্য অধিনায়কের মতো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি। নিজে জোড়া গোল করার পাশাপাশি গোল করালেন। এমনকি শুরুতেই পেনাল্টি আদায় করেন তিনিই।

দলের খেলায় খুশি চেরনিশভ। ম্যাচ শেষে বললেন, গুরুত্বপূর্ণ জয়। ডুরান্ড ফাইনালের হারের পর খেলোয়াড়রা মুষড়ে পরেছিল। ওদের সঙ্গে কথা বলে মোটিভেট করেছি। এদিন তারই ফল পেলাম। সেমিফাইনাসে ইউনাউটেড স্পোর্টসের মুখোমুখি হওয়ার আগে অবশ্য ছুটির মেজাজ মহমেডানে। পুজোর মরশুমে ফুটবলারদের দিন পনেরোর জন্য ছুটি দিয়েছেন কোচ। দেশে ফিরবেন মার্কাস, নিকোলারা। ছুটি কাটিয়ে ফিরে লিগ জয়ে লড়াই শুরু করবে মহমেডান।