দল ছেড়েছেন মোহন শর্মা, দাবি তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতির

145

কালচিনি: দলীয় পদ সহ একাধিক সরকারি পদ থেকে আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন মেন্টর মোহন শর্মা। এবার মোহনবাবুর তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিলেন তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি অসীম মজুমদার। সোমবার তিনি নিজেও দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

এদিন অসীমবাবু দাবি করেন, দল থেকে মোহন ও তাঁর অনুগামীরা ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। তবে তিনি ও মোহনবাবু ইস্তফাপত্র দলীয় নেতৃত্বের কাছে জমা করেননি। কারণ দলীয় পদের জন্য কোনও লিখিত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তাই সংবাদমাধ্যমেই তাঁরা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন। যদিও মোহন শর্মা ফোন না তোলায় এবিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানা যায়নি। দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামীও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘কে কোথায় যাবে তা আমার জানা নেই। দলের কারও কোনও ক্ষোভ থাকলে দলের নির্দিষ্ট যায়গায় জানানো যেতে পারে।’ এদিকে, মোহন শর্মা ও তাঁর অনুগামীরা দল ছাড়লেও তাঁরা কোন দলে যোগ দিচ্ছেন, তা খোলসা করেননি অসীম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আগামী দুই তিনদিনের মধ্যে তাঁরা কোন দলে যাচ্ছেন তা প্রকাশ্যে আনা হবে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, তৃণমূলের জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বেশকিছু দিন ধরে মতবিরোধ চলতে থাকায় জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে যে, মোহনবাবু সম্ভবত তাঁর অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাচ্ছেন। যদিও সোমবার পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মোহনবাবু কোনও মন্তব্য করেননি। তবে, বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘মোহনবাবুকে ইতিমধ্যেই দলে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

তৃণমূল সূত্রের খবর, জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি মোহন শর্মার বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ শুরু হয়। সমস্যা আরও বাড়ে যখন তাঁর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কালচিনি আসনের জন্য পাশাং লামাকে তৃণমূল টিকিট দেয়। দলের এই সিদ্ধান্তে মোহনবাবুর সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের বিরোধ চরমে ওঠে। গত ২২ মার্চ তিনি কালচিনিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে ৯টি সরকারি ও দুটি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত বুঝে যান মোহনবাবুর দল ছাড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। যদিও সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন না। জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে, তৃণমূল ছাড়া প্রসঙ্গে অসীম মজুমদার বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোহনবাবুকে যোগ্য সম্মান দিচ্ছিল না। এছাড়া কালচিনিতে প্রার্থী দেওয়া নিয়েও ওঁনার মতামতকে গ্রাহ্য করেনি দল। এসব কারণেই মোহনবাবু সহ আমরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তবে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কো-অর্ডিনেটর পাশাং লামা বলেন, ‘মোহনবাবুকে দল যোগ্য সম্মান দিত বলেই তাঁকে এতগুলি সরকারি ও দলীয় পদ দেওয়া হয়েছিল। অসীমবাবুও দলের প্রবীণ নেতা হিসেবে দলীয় কর্মীদের কাছে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছেন। কেউ দল ছাড়তে চাইলে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’