জতুগৃহ অবস্থায় রায়গঞ্জ শহরের মোহনবাটি বাজার

103

রায়গঞ্জ: কয়েকদিন আগেই রায়গঞ্জের বীরনগর এলাকার আবাসনের নীচের প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তার পরপরই শহরের অধিকাংশ আবাসনের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার কার্যত কঙ্কাল চিত্র উঠে আসে। এমতাবস্থায় রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই। রায়গঞ্জ শহরের সবথেকে ব্যস্ততম বাজার হল মোহনবাটি বাজার। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বাজারের বিভিন্ন দোকানগুলো খোলা থাকে। ওই বাজারে কখনও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে আর কিছু করার থাকবে না বলেই মনে করেন বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।

শহরের মোহনবাটি বাজারে ছোট গলির ভেতরে দুপাশে বিভিন্ন দোকান যেমন রয়েছে। মাঝের ছোট রাস্তায় রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, বাইক সহ বিভিন্ন যান নিয়ে ক্রেতারা রয়েছেন। অন্যদিকে বাজারের বিভিন্ন অংশে ছোট হোটেল, মিষ্টির দোকান রয়েছে। ওইসব দোকানে বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস বা আগুন জ্বলে। কোনদিনও দুর্ঘটনাবশত যদি কোথাও আগুন লেগে যায় তাহলে আর সময় পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন শহরের মানুষ।

- Advertisement -

এক ক্রেতা চঞ্চল রায় বলেন, ‘কিছুদিন আগে বীরনগর এলাকার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সবাই জানে। তারপর থেকে রীতিমতো ভয়ে আছি।‘ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাও। বাজার কমিটির সভাপতি ব্যবসায়ী জয়ন্ত সোম বলেন, ‘বাজারের অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। বেশ কয়েক বছর আগে বাজারের একটি দশকর্মা ভান্ডারের দোকানে আগুন লেগেছিল। সেই সময় তৎকালীন পুরপিতা মোহিত সেনগুপ্ত বাজার পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা সেই সময় পুরসভা ও দমকলের কাছে ওয়াটার রিজার্ভার বা ডিপ বোরিংয়ের আবেদন জানিয়েছিলাম। আমরা ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করতে রাজি ছিলাম। কিন্তু কোনও জায়গা থেকে এই বিষয়ে আমরা সহযোগিতা পাইনি।‘

পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডুর বলেন, ‘অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা শহরের কোনও বাজারেই নেই। অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে তার পরিনতি হবে ভয়াবহ। সরকার এবং বাজার কমিটি উভয়কেই এগিয়ে এসে অগ্নি নির্বাপনের বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।‘ স্থানীয় কাউন্সিলার ভোলা পালও বলেন, ‘মোহনবাটি বাজার জতুগৃহ হয়ে রয়েছে। কোনদিনও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে বাজার পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।‘