মোমোগলিতে দেখা নেই মোমোরসিকদের, ঝাঁপ বন্ধ দোকানের

513

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: করোনা থাবায় এমনিতেই খোঁজ নেই মোমো রসিকদের। এরমধ্যেই শনিবার এলাকার একটি বুটিকে দোকানে কর্মরত এক ব্যক্তির করোনা আক্রান্তের খবরটা শেষ পেরেক পুঁতেছে। জাঁতাকলের মধ্যেই মোমোগলি থেকে হারিয়েছে মোমো। সোমবার মোমোগলিতে টেইলারিংয়ের দোকান থেকে অন্যান্য দোকান খুললেও মোমো বিক্রিকে কেন্দ্র করে মিলল না কোনও হাঁকডাক। এমনকি মঙ্গলবার একটি দোকান সাহস নিযে খুললেও দেখা মেলেনি কোনও ক্রেতার। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দোকানদারও ভবিষ্যতে দোকানের ঝাঁপ খোলা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। মোমোগলির পরিচিতি মোমোর প্রতি খাদ্য রসিকদের মুখ ফেরার সময় নিয়ে ঘরে বসেই হিসেব, নিকেশ করছেন ষষ্ঠী ঘোষ, নারায়ণ দাসরা।

প্রসঙ্গত, শহরের সঙ্গে শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের মোমোগলির এক আলাদা সংযোগ রয়েছে। শহরে এসে মোমোর স্বাদ নিতে মোমোগলিতে না আসার সংখ্যাটা নিতান্তই নগণ্য। শুধু শহরবাসীই নন, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছেও মোমোর স্বাদ নেওয়ার বিষয়ে মোমোগলির পরিচিতি অনেকটাই। কিন্তু সেই মোমোই এখন সংসার চালানোর ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

মোমোগলিতে মোমোর দোকান ছাড়াও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান রয়েছে। গত শনিবার এলাকার একটি বুটিকের দোকানের এক ব্যক্তির করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। মার্কেট সূত্রে জানা যায়, শেষবারের মতন ওই ব্যক্তি গত মাসের শেষের দিকে কিছুক্ষণের জন্য দোকানে এসেছিলেন। করোনার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দোকানপাট বন্ধ হযে যায়। তবে সে খবর পাওয়ার পর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মোমো খাওয়ানোর মাধ্যমে মন জয় করা ওই মোমো বিক্রেতাদের মন ভেঙে দিয়েছে, যা সেটা ঝাঁপবন্ধ মোমোর দোকানগুলিই বলে দিচ্ছে।

এদিন মোমো গলির সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক পবন দাস বলেন, একটু সাহস করে খুলেছিলাম। এভাবে আর কত দিন টানতে পারব। ২৬ বছর ধরে ওই এলাকায় মোমো বিক্রি করে আসা ষষ্ঠী ঘোষ বলেন, ‘শনিবারের আগেও আমরা কয়েকদিন মোমোর দোকানগুলি খুললেও সেরকম কোনও ক্রেতা পাইনি। তবে শনিবারের ঘটনার পর যাও বা মোমোরসিকদের আসার কথা ছিল, তাও শেষ হয়ে গেল। কয়েকদিন পর দোকান খোলা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।’ নারায়ণ দাস বলেন, ‘কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে মোমোগলিতে মোমো বিক্রি করে আসছি, কিন্তু এরকম দিন আসবে কোনওদিন ভাবতে পারিনি।’