পুরুলিয়ার জোড়া সভা থেকে বিজেপিকে তোপ মমতার

101
ছবিঃ সংগৃহীত

কলকাতা: আহত হওয়ার পর রবিবারই প্রথম জেলা সফরে বেরোলেন তৃণমূল নেত্রী। সোমবার পুরুলিয়ার ঝালদার সভা থেকে হুইল চেয়ারে বসেই বক্তব্য পেশ করেন মমতা। পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনেই প্রথম দফায় ভোট। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের হিসেবে পুরুলিয়ার ৯টি আসনেই পিছিয়ে তৃণমূল। ঝালদার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘১০ তারিখ একটি ঘটনায় সারা শরীরে চোট লাগে। কিন্তু মানুষের যন্ত্রণা আমার থেকে আরও বেশি। কেউ কেউ ভেবেছিলেন আমি আর বেরোতেই পারব না। কিন্তু, ভাঙা পা নিয়েই আমি নির্বাচনের প্রচার করব।’

এদিনের সভা থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, ‘আগামীদিনে বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ায় ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’ বিরোধীদের কটাক্ষ করে মমতার তোপ, বিজেপি গ্যাস-পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছে। সেই টাকা ওরা নির্বাচনে খরচ করছে। টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে। নোটবন্দি করে টাকা কামিয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস-সিপিএমও এখানে বিজেপির দালালি করছে বলে তোপ মমতার।

- Advertisement -

তিনি আগেই বলেছেন, ‘আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর।’ পায়ে চোট থাকলেও এদিনও নেত্রীর গলায় ছিল সেই চেনা পরিচিত বিজেপি বিরোধী সুর। তিনি বলেন, ‘আমার পা তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, বিজেপির পা আর বাংলায় পড়বে না।’ একইসঙ্গে তাঁর সাবধানবাণী, বিজেপির পাতা ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। ওরা ফাইভ স্টার হোটেল থেকে খাওয়ার আনে, আর দু’ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়া নেয়। আর দেখায় গরীবদের ঘরে খাচ্ছে। টাকা নিয়ে নিচের চরিত্র বিক্রি করবেন না।’ ঝালদার সভা থেকেই বাংলার উন্নয়নকে হাতিয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল বাংলায় যা কাজ করেছে তা বিশ্বের আর কোনও দল পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী দেশ চালাতে অক্ষম বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর আমলেই অযোধ্যা সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে বলেও জানান মমতা।

আপনাদের ভোট লুঠ করতে দেবেন না। আমি যদি ভাঙা পায়ে লড়তে পারি, তা হলে তোমরা কেন লড়তে পারবে না বলে তৃণমূলকর্মীদের বার্তা দেন মমতা। অভিমান করে ঘরে বসে থাকবেন না, বিজেপি-র বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে ট্রেনের ভাড়া দেয়নি কেন্দ্র বলেও এদিন তোপ দাগেন মমতা। জানিয়ে দেন রাজ্য সরকারই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থেকেছে। তাঁর আর্জি, বিজেপির কান্নায় ভুলবেন না। কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিন। সব কাজ যদি মমতা দিদি করে, তা হলে খাল কেটে কুমির এনে কী লাভ?