পুকুর চুরির অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

336

করণদিঘি: রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের পর এবার তৃণমূল পরিচালিত করণদিঘির আলতাপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠল। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী আলতাপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ুয়া গ্রামে একশো দিনের কাজে এলাকার বাসিন্দা সলিমুদ্দিনের জমিতে একটি পুকুর খোঁড়া হয়েছে। যদিও বাস্তবে তা হয়নি বলেই অভিযোগ। বরং, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জমি মালিক সলিমুদ্দিন তাঁর ৩১ শতক জমিতে কিছুটা আমশ বাদ রেখে ধানচাষ করেছেন। তারই পাশে আবার বাঁশঝাড় রয়েছে।

জমি মালিক সলিমুদ্দিন জানান, পঞ্চায়েত প্রধান সুফিয়া খাতুনের স্বামী তাঁর জমিতে পুকুর খনন করে দেওয়ার জন্য জমির খতিয়ান নম্বর নিয়ে যান। তারপর দুই বছর কেটে গেলেও সে পুকুর আজও হয়নি।

- Advertisement -

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, খাতা কলমে পুকুর খননের কাজ হয়ে গেলেও বাস্তবে তা হয়নি কেন? চুরি করল কে? মানে পুকুর কাটার টাকা কে নিয়েছে? সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোনও উত্তর না দিয়ে চুপ করেই থেকেছেন পঞ্চায়েতের প্রধান সুফিয়া খাতুন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুফিয়াকে সামনে বসিয়ে সব কাজ পরিচালনা করেন তাঁর স্বামী জিয়াবুল আলি। এ কারণেই সুফিয়া খাতুন কিছুই জানেন না। স্থানীয়রা আরও জানান, স্থানীয় বাগডোবা এলাকায় স্ত্রী প্রধান হওয়ার আগে জিয়াবুলের একটা ছোট লটারির দোকান ছিল। মাথা গোঁজার আস্তানা বলতে বড়ুয়া গ্রামে দোচালা একটা টালির ঘর ছিল। কিন্তু স্ত্রী প্রধান হওয়ার পরেই লটারির দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দেন জিয়াবুল। বর্তমানে তিনি চার চাকা গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়ান। লটারির দোকান বন্ধের পর চার চাকা গাড়ি আসল কোথা থেকে অর্থাৎ টাকা পেলেন কোথা থেকে? এই প্রশ্নের অবশ্য অধরা।স্ত্রী সুফিয়াও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান নি।

এদিকে সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা গিয়েছে, ১০০ দিনের প্রকল্পে আলতাপুর ১ অঞ্চলের বড়ুয়া গ্রামের ওই জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রকল্প বাবদ খরচ হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ টাকা। অথচ চারিদিকে বাঁশ ঝাড় ঘেরা সেই জমিতে ধানের বীজ চাষ করেছেন জমির মালিক।

পুকুর চুরির অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

স্থানীয় সিপিএম নেতা আশিস ঘোষ বলেন, পুকুর খননের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। অথচ কোনও তদন্ত হচ্ছে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পুকুর চুরির প্রতিবাদে আন্দোলনে করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষাকর্মী সমর সরকার জানান, গরীব মানুষের টাকা নয়ছয় করছে গ্রাম পঞ্চায়েত। যারা ক্ষমতায় আছে তারাই ফুলে ফেঁপে উঠছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জানিনা এই অবস্থার অবসান কবে হবে।

করণদিঘির বিধায়ক মনোদেব সিনহা জানান, পুকুর চুরির বিষয়টি জানা নেই। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গৌতম পাল বলেন, প্রশাসন থেকে তদন্ত করেছে। সেরকম কিছু পাইনি। দলীয়ভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

পুকুর চুরির ব্যাপারে করণদিঘির বিডিও বিজয় মুক্তান বলেন, “আলতাপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজে পুকুর না খুঁড়েই টাকা নয়ছয়ের বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ব্লক প্রশাসন।”