তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কোর্ট মোড়ে তোলাবাজি

497

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরের জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় তোলাবাজি। তাও আবার ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। চেপে ধরতেই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দোহাই দিয়ে ছুটে পালাল তোলাবাজ। শহরের কোর্ট মোড়ে রোজ এই তোলাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। প্রতিদিন কোর্ট মোড়ের এই স্ট্যান্ড থেকে সিন্ডিকেটের নামে ৩,০০০-৩,৫০০ টাকা তোলা আদায় হয়। তা কোথায় যায়? সূত্রের খবর, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তৃণমূলের এক তথাকথিত শ্রমিক নেতা এই সিন্ডিকেট চালান। আর তৃণমূল নেতা জড়িত থাকায় সব দেখেশুনেও চোখ বন্ধ করে থাকছে কোর্ট মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, কোনও সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না। যে বা যারা ওই তোলা আদায় করছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলছি। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের এক কর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিলিগুড়ির কোর্ট মোড় স্ট্যান্ড থেকে শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন রুটে ২৫০টিরও বেশি সিটি অটো প্রতিদিন চলাচল করে। প্রত্যেকটি অটো থেকে ২০ টাকা করে দাদাগিরি ট্যাক্স তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সিন্ডিকেটের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন সবার চোখের সামনেই তোলাবাজি চলছে। প্রতিদিন এভাবে টাকা দিতে দিতে নাজেহাল অটোচালকরাও। কিন্তু দাবিমতো টাকা না দিলে গাড়ি বসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়ে প্রত্যেক অটোচালকই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিন এমনই দাবি করেছেন অটোচালকরা।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার দুপুরে কোর্ট মোড়ে পুলিশের সামনেই এক যুবক প্রতি সিটি অটো থেকে ২০ টাকা করে তোলা আদায় করছিল। তার কাছে যেতেই বলে উঠল, গুটখা খাওয়ার জন্য ১০ টাকা নিলাম। কিন্তু হাতে তো ২০ টাকা এবং প্রতি অটো থেকেই তুলছেন? তখন সে বলে, তৃণমূলের সিন্ডিকেট। কিন্তু কার সিন্ডিকেট, কার নির্দেশে এই তোলাবাজি? এই বলতেই ছুটে পালায় ওই যুবক। পরে অটোচালকরা জানান, এই তোলাবাজ যুবকের নাম বাবু। আরও দু-একজন শাগরেদকে নিয়ে কোর্ট মোড় ট্রাফিক পুলিশের অফিসের বাইরে বসে থাকে। আর অটো দেখলেই দৌড়ে গিয়ে ২০ টাকা করে তোলে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা পরে দেব বললেও শোনে না। সঙ্গে সঙ্গেই টাকা দিতে হয়। সিন্ডিকেটের নামে টাকা তোলা হচ্ছে বলা হলেও তাঁরা কোনওদিনই কোনও রসিদ দেখেননি। ওই টাকা কোনও চালক বা মালিকের উপকারেও লাগছে না। কিন্তু শুধু ঝামেলা এড়াতেই টাকা দিতে হচ্ছে। তাদের সামনেই তোলাবাজি হচ্ছে অথচ ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য, তারা কিছুই দেখেনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের শ্রমিক সংগঠনের দোহাই দিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দলাল বসু সরণির বাসিন্দা এক নেতা ওই সিন্ডিকেট চালান। যদিও দলে বা শ্রমিক সংগঠনে এখন তাঁর কোনও পদ নেই। দলের নেতারা এই খবর জানেন না এমনটা নয়। অভিযোগ, সবাই সবকিছু জেনেও এভাবে তোলাবাজি করে মাসে প্রায় লক্ষ টাকা তোলাবাজির সুযোগ করে দিচ্ছেন। আর শাসকদল যুক্ত থাকায় পুলিশও মুখে কুলুপ এঁটেছে।