শিলিগুড়িতে আরও ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যানের হদিস

1840
প্রতীকী ছবি।

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: ফ্ল্যাটের নথি নিয়ে শহরের কয়েকজন ফ্ল্যাট মালিক পুরনিগমে যেতেই ভুয়ো চক্রের স্বরূপ ক্রমশ সামনে আসছে। অন্তত আরও চারটি ফ্ল্যাটের কাগজপত্র যে জাল করা হয়েছে, তা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের কর্মী ধরতে পেরেছেন। কীভাবে শহরে বছরের পর বছর ধরে পুরনিগমের চোখে ধুলো দিয়ে এই জালিয়াতি চলছে, তা দেখে বিস্মিত পুরনিগমের অনেক আধিকারিক। শিলিগুড়ির পুর কমিশনার ও ইঞ্জিনিয়ার রাজেন কোলের সই জাল করে যে বেশ কিছু অবৈধ ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, সে ব্যাপারে এখন তাঁরা অনেকেই নিশ্চিত। মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্বের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। এদিকে, ফ্ল্যাটের প্ল্যান জালিয়াতি ধরতে ইতিমধ্যেই দুটি টিম তৈরি করেছে পুরনিগম। নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটগুলিতে অভিযান চালাচ্ছে তারা।

শহরে ফ্ল্যাট জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ইঞ্জিনিয়ার সংগঠনের সম্পাদক দুলাল নিয়োগী বলেছেন, এই ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত বেশ কয়েদিন ধরে আমরা পাচ্ছিলাম। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা বুঝতে পারছিলাম না। তবে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্ল্যাটের জালিয়াতি সামনে আসতেই বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এক সদস্যকে ইতিমধ্যেই আমাদের সংগঠন থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রাজেন কোলের সই জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় নিজেদের সই জালিয়াতি নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন একাধিক ইঞ্জিনিয়ার।

- Advertisement -

গত কয়েক বছরে শিলিগুড়ি শহরে যেসব ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে তাতে নিজেদের কেনা ফ্ল্যাটের কাগজ ঠিক আছে কি না তা নিয়ে আতঙ্কিত ফ্ল্যাট মালিকরাও। পুরনিগম থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ক্রেতার নিজের ফ্ল্যাটের নথি নিয়ে সন্দেহ থাকে তা হলে কাগজপত্র সঠিক কি না তা যাচাইয়ে জন্য পুরনিগমে আসতে পারেন।

জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ সংবাদে ফ্ল্যাটের প্ল্যান নিয়ে জালিয়াতির খবর প্রকাশ হতেই শহরের বহু ফ্ল্যাট মালিক নিজেদের ফ্ল্যাটের কাগজপত্র নিয়ে পুরনিগমের দ্বারস্থ হন। তাঁদের কয়েকজনের কাগজপত্র দেখে চোখ কপালে ওঠে বিল্ডিং বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের।  আরও নতুন নতুন ফ্ল্যাটের ভুয়ো প্ল্যানের তথ্য সামনে আসে। জানা গিয়েছে, নতুন এই ফ্ল্যাট জালিয়াতির বেশিরভাগই হয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে।

সূত্রের খবর, পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কাণ্ডে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জিত দাসের বেশিরভাগ কাজই রয়েছে এই ওয়ার্ডে। শিলিগুড়ি প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন, শহরে একটাও অবৈধ বিল্ডিং বরদাস্ত করা হবে না। শহরে গজিয়ে ওঠা সক্রিয় এই ভুয়ো বিল্ডিং পাশ চক্রের কারবারি তো রঞ্জিত দাস একা নন। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে বাকিদের নাম কবে প্রকাশ্যে আসবে?

শিলিগুড়ি ইঞ্জিনিয়ার্স ও আর্কিটেক্ট অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক দুলালবাবু বলেন, পুরো বিষয়টি আস্তে আস্তে সামনে আসছে। এই ধরনের জালিয়াতি চক্রের মুখোশ খুললে শহরবাসী স্বস্তি পাবেন। কারণ নিজেদের কষ্ট করে জমানো লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে মানুষ একটা ফ্ল্যাট কিনে থাকেন। কিন্তু পরে যদি জানতে পারেন তা অবৈধ, সেক্ষেত্রে তাঁদের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।  পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা পরিচালন কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন মেয়র ইন কাউন্সিল মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যেই আরও কয়েকটি ফ্ল্যাটের বিল্ডিং প্ল্যান পাশের জালিয়াতির ব্যাপারে জানতে পেরেছি। শহরের মধ্যে এই ধরনের জালিয়াতি বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে দুটি টিম করা হয়েছে। যেখানে যেখানে ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে সেখানে গিয়ে তারা সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখবে।