রেকর্ড ভাঙা দর মরিসের, বিরাট শিবিরে ম্যাক্সওয়েল

চেন্নাই : মিনি নিলামে বিরাট চমক।

আইপিএল ইতিহাসে নিলামে সর্বোচ্চ দরের রেকর্ড গড়লেন ক্রিস মরিস। নিজের জন্য ৭৫ লাখ বেসপ্রাইস রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান বছর তেত্রিশের পেস অলরাউন্ডার। চার ফ্র্যাঞ্চাইজির দড়ি টানাটানিতে সেই দরই পৌঁছে গেল ১৬.২৫ কোটিতে! মুম্বই, বেঙ্গালুরু, পাঞ্জাবকে হারিয়ে আকাশছোঁয়া দরে মরিস-প্রাপ্তি রাজস্থান রয়্যালসের। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে আইপিএলের সর্বকালীন রেকর্ড।

- Advertisement -

 

গত নিলামে ১৫.৫ কোটিতে প্যাট কামিন্সকে নিয়েছিল কেকেআর। নিলামে ওঠা বিদেশি ক্রিকেটারদের সেটাই ছিল সর্বোচ্চ দর। শুধু কামিন্সকেই নয়, মরিস পিছনে ফেলে দিলেন যুবরাজ সিংয়ের সর্বকালীন রেকর্ড ১৬ কোটির দরকেও। আইপিএলের নিলাম টেবিলের মজা বোধহয় এখানেই। গতবারও ১০ কোটি টাকায় মরিসকে কিনেছিল আরসিবি। বিরাটদের দল ভেবেছিল এবার মরিসকে রিলিজ করে দিয়ে নিলামে কিছুটা কম দামে নিয়ে নেবে। যদিও লাভবান মরিসই। ১০ থেকে তা বেড়ে ১৬.২৫।

মরিসের আগে ঝড় ওঠে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে। গত আইপিএলে চূড়ান্ত ফ্লপ। রিলিজ করে দেয় পাঞ্জাব। তবে আইপিএলের বাকি দলগুলির কাছে ম্যাক্সওয়েল-ম্যানিয়া অটুট। নিটফল, চেন্নাই-বেঙ্গালুরুর ডুয়েছে ১৪.২৫ কোটি ঢুকছে অজি তারকার পকেটে। নিলামের আগে বলেছিলেন, বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে চান। দাম ও পছন্দের দল, দুটোই পেলেন ম্যাক্সওয়েল। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন্নাস্বামীর ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট ম্যাক্সওয়েলের জন্য পারফেক্ট মঞ্চ হতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘকায় পেসার কাইল জেমিসনও আরসিবিতে। তবে দিল্লি ও পাঞ্জাবকে হারাতে একটু বেশি ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। ভালো দর পান টম কুরান (দিল্লি, ৫.২৫ কোটি) ও মোজেস হেনরিকে (পাঞ্জাব, ৪.২০ কোটি)। ম্যাক্সওয়েকে না পেয়ে বিদেশি কোটা চেন্নাই পূরণ করে মইন আলি (৭ কোটি)-কে নিয়ে। চিপকের পিচে গত টেস্টে মইন ব্যাটে-বলে সাফল্য পেয়েছেন। আইপিএলেও চিপকের পিচে মইন ফ্যাক্টর হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউ নর্মালে প্রথম নিলাম। অতিমারিকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে তাকানোর উৎসাহটা চোখে পড়ছিল প্রতিটি দলের নিলাম টেবিলে। প্রীতি জিন্টা, অনিল কুম্বলে, মহম্মদ কাইফ, জাহির খানরা হাজির নিজেদের দলের সঙ্গে। অন্যতম আকর্ষণ ছিল কেকেআরের টেবিলে বসে থাকা শাহরুখ খানের পুত্র ও জুহি চাওলার কন্যা। ৩.২ কোটিতে সাকিব আল হাসানকে পাওয়ার উচ্ছ্বাসটুকু ছুঁয়ে যাচ্ছিল দুজনকেই।

প্রাক্তন যোদ্ধার ঘরে ফেরা। পরে নাইটদের অন্যতম সাপোর্টিং স্টাফ অভিষেক নায়ার পরে বলেন, সাকিব কেকেআর সম্পর্কে অবগত। ও ফেরায় আমরাও খুশি। অত্যন্ত অভিজ্ঞতা। ওর লিডারশিপ কোয়ালিটি দলের কাজে লাগবে। আমাদের হাতে একাধিক বিকল্প তৈরি হবে সাকিবের কামব্যাকে। বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানেরও আইপিএল কামব্যাক ঘটছে। প্রাথমিকভাবে কেকেআর ঝাঁপাবে শোনা গেলেও, শেষপর্যন্ত ১ কোটির বেস প্রাইসে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুরকে পেয়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস।

এদিনের নিলামে রমরমা অস্ট্রেলীয়দেরই। পেসার ঝেই রিচার্ডসনের দর ওঠে ১৪ কোটিতে। ত্রিমুখী লড়াইয়ে আরসিবি-ডিসিকে টেক্কা দেয় অনিল কুম্বলের পাঞ্জাব কিংস। মহম্মদ সামি ছাড়া গতবার কোনও পেসারই ছাপ রাখতে পারেনি। রিচার্ডসনকে নিয়ে সেই দুর্বলতা ঢাকার প্রয়াস। আর এক অজি পেসার রিলে মেরেডিথকে ৮ কোটিতে নেয় পাঞ্জাব কিংস। পাশে অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার উমেশ যাদবের ১ কোটির (দিল্লি ক্যাপিটাল) দরটা হতাশার! আশিস নেহেরাও বলছিলেন, দুই অজি পেসারের দর অনেকটাই বেশি। যুক্তি, বিগব্যাসের পারফরম্যান্স দেখে রিচার্ডসনদের জন্য ঝাঁপিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। কিন্তু খেলাটা হবে ভারতের মাটিতে। তাছাড়া টিম কম্বিনেশন ভালো দেশীয় ক্রিকেটার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

নিলামে সস্তায় ভালো প্লেয়ার প্রাপ্তির নিরিখে টেক্কা দিয়েছে দিল্লি ও মুম্বই। বাকিদের টেক্কা দিয়েছে। মুম্বই যেমন নাথান কোল্টার-নাইল (৫ কোটি), অ্যাডাম মিলনে (৩.২ কোটি) পীযূষ চাওলা (২.৪ কোটি)-র জন্য খুব বেশি খরচ করেনি। প্রত্যাশামাফিক ২০ লাখ টাকার বেসপ্রাইসে শচীন-পুত্র অর্জুন তেন্ডুলকারকে নিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। স্বাগত জানিয়ে টুইটারে দলের তরফে লেখা হয়েছে, ওয়েলকাম হোম, অর্জুন তেন্ডুলকার। অপরদিকে, স্টিভেন স্মিথকে ২ কোটিতে নিয়ে দিল্লি তাদের টপঅর্ডারকে শক্তিশালী করল। পৃথ্বী শা, আজিঙ্কা রাহানেরা গতবার ব্যর্থ। শ্রেয়স আইয়ার, ঋষভ পন্থ, মার্কাস স্টোয়নিসদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছিল। স্মিথের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দলের ব্যাটিং কোচ মহম্মদ কাইফ।

ভারতীয়দের মধ্যে চমক কৃষ্ণাপ্পা গোতম (চেন্নাই, ৯.২৫), শিবম দুবে (রাজস্থান, ৪.৪ কোটি), শাহরুখ খান (পাঞ্জাব, ৫.২৫ কোটি)-রা। গোতমকে নিয়ে কলকাতা, হায়দরাবাদ, চেন্নাইয়ের টানাটানি উত্তাপ বাড়িয়ে দেয় চেন্নাইয়ে আইটিসি গ্রান্ড চোলা হোটেলের নিলাম-ঘরে। শেষপর‌্য়ন্ত ধোনির দল টেক্কা দেয়। হলুদ ব্রিগেডের হাত ধরে আইপিএলে প্রত্যাবর্তন চেতেশ্বর পূজারারও (৫০ লাখ)।

প্রথমবার বিক্রি না হওয়া কেদার যাদব (হায়দরাবাদ, ২ কোটি), হরভজন সিং (কলকাতা, ২ কোটি), স্যাম বিলিংস (দিল্লি, ২ কোটি) দল পেয়েছেন। এদিনের নিলামে আলাদা আকর্ষণ ছিলেন তামিলনাড়ুর উদীয়মান ফিনিশার শাহরুখ খান। গত মুস্তাক আলি ট্রফিতে সাফল্যের সুবাদে নিলামে রীতিমতো টানাটানি। শেষপর্যন্ত জয়ী প্রীতি জিন্টার পাঞ্জাব। ফলস্বরূপ ২০২১ আইপিএলে প্লেয়ার-মালকিন জুটিতে শাহরুখ-প্রীতি যুগলবন্দি!