কোচবিহারে অরক্ষিত এটিএম, শঙ্কায় গ্রাহকরা

106

শিবশংকর সূত্রধর  কোচবিহার :  শুধুমাত্র সিসিটিভি ক্যামেরার উপর ভরসা করেই চলছে কোচবিহারের অধিকাংশ এটিএম কাউন্টার। বেশিরভাগ এটিএম কাউন্টারে নিরাপত্তারক্ষী নেই। ফলে এটিএমের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি এটিএমগুলি কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে এটিএম লুঠের চেষ্টার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কোচবিহার জেলার প্রতিটি এটিএম কাউন্টারে নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সমস্যার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন লিড ব্যাংকের কোচবিহার শাখার ম্যানেজার কিশোর সিং থাপা। তিনি বলেন, সব এটিএম কাউন্টারে নিরাপত্তারক্ষী নেই। তবে প্রত্যেকটিতেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এটিএমের ব্যাংক কর্তপক্ষ ও এজেন্সি দেখভাল করে।

জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় ১৭০টি এটিএম রয়েছে। এটিএমগুলির মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। বছরখানেক আগে কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকার একটি এটিএম লুঠের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি এটিএম-এ জালিয়াতি করে গ্রাহকের টাকা লুঠের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। যার জেরে কোচবিহার জেলা পুলিশের তরফেও এটিএমগুলিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। যদিও কোচবিহারের কোনো এটিএমে অসংগতি দেখা যায়নি। কিন্তু কোচবিহারের প্রতিটি এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোচবিহার শহরের বাসিন্দা সুমন রায় বলেন, মাঝেমধ্যেই এটিএম ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ এটিএমেই দেখি কোনো নিরাপত্তারক্ষী নেই। তাতে যে কোনো সময় ছিনতাই হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। গৃহবধূ রমা দাস বলেন, কোনো কোনো এটিএমে দেখা যায় একসঙ্গে দুতিনজন ঢুকে পড়ছে। নিরাপত্তারক্ষী থাকলে তা হত না। এছাড়াও যাঁরা ঠিকমতো এটিএম ব্যবহার করতে জানেন না, তাঁরা নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন। ফলে প্রতিটি এটিএমেই নিরাপত্তারক্ষীর প্রযোজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় গ্রাহকদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যদি সেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী না থাকেন, তাহলে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। এটিএম-এর কার্ডের স্লটটিতে অসংগতি রয়েছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে বিষয়টি ব্যাংক বা পুলিশের নজরে আনতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তারক্ষীহীন এটিএমে লেনদেনের জন্য ঢুকলে আশেপাশে সন্দেহজনক কেউ রয়েছেন কিনা তা দেখে নেওয়া উচিত।