কোচবিহার সরকারি মেডিকেলে বেশিরভাগ সিসিটিভি বিকল

262

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বেশিরভাগ সিসিটিভি ক্যামেরাই বিকল হয়ে রয়েছে। এর ফলে মেডিকেলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাড়াতে ৩২টি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, আগের সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে বেশ কিছু এখন আর কাজ করছে না। তাই নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই নতুন ক্যামেরা বসানো হবে।

বেশ কিছুদিন ধরেই মেডিকেলের বেশিরভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল থাকার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিসেবার ক্ষেত্রে কোচবিহার মেডিকেলের সুনাম থাকলেও মাঝেমধ্যেই চিকিৎসার গাফিলতি সহ অন্য অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসক নিগ্রহ, হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ফলে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল থাকায় চিকিৎসক, কর্মী, রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের পাশাপাশি হাসপাতালের সম্পত্তি কতটা সুরক্ষিত- তা নিয়ে চিন্তিত মেডিকেল কর্তৃপক্ষই। গত বছরই জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত হয়েছে রাজ আমলের এই হাসপাতাল। সাতশোর বেশি শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে আশপাশের জেলা বাদেও অসমের বহু রোগী চিকিৎসা করান। হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসেন। এই পরিস্থিতিতে জনবহুল হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করানো এক রোগীর পরিজন ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা যদি নাই থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? হাসপাতালের মতো এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা নেই- এটা মেনে নেওয়া যায় না। কোচবিহারের বাসিন্দা শান্তনু সাহা বলেন, মাঝেমধ্যেই খবরের কাগজে হাসপাতালে গণ্ডগোলের খবর দেখি। যদি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকে তাহলে ঘটনাগুলির প্রকৃত তদন্ত হবে কীভাবে? কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলে। সম্প্রতি জরুরি বিভাগের ভিতরের একটি বারান্দায় ভ্রূণ উদ্ধার হয়। তার বেশ কয়েদিন আগেও জরুরি বিভাগের সামনে ভ্রূণ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি ঘটনার কোনো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তাদের কাছে নেই। এছাড়া, সিসিইউয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। দুই চিকিৎসককে মারধর ও কর্তব্যরত নার্সদের নিগ্রহ করার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মেডিকেল চত্বর। কয়েকমাস আগে এখানে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। নিরাপত্তারক্ষীরাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন এমএসভিপি নিজেই। এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -