কোচবিহারে নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই চলছে অধিকাংশ এটিএম

54

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহার শহরের বেশিরভাগ এটিএম কাউন্টার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন গ্রাহকরা। সম্প্রতি কলকাতার নিউ মার্কেট, যাদবপুর এবং কাশীপুরে তিনটি এটিএম কাউন্টারে ঢুকে এটিএমের কোনও ক্ষতি না করেই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। নতুন ছকে এটিএম প্রতারণা হতেই কোচবিহার শহরের রক্ষীবিহীন এটিএম কাউন্টারগুলি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা। এটিএম কাউন্টারগুলিতে অন্তত একজন করে নিরাপত্তারক্ষী রাখার দাবি জানিয়েছেন শহরবাসীর অনেকে।

কোচবিহার জেলায় কমবেশি ২০০টি এটিএম রয়েছে। শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে প্রতিদিন এটিএমগুলি থেকে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। দুবছর আগে কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় এটিএম লুটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। সেসময় অবশ্য কোচবিহার জেলা পুলিশের তরফে এটিএমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। এবার কলকাতার মতো ব্যস্ততম জায়গায় এটিএম লুটের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কোচবিহারের এটিএমগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শহরজুড়ে পুলিশি টহলদারি বাড়ানোরও দাবি তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ, শহরের বেশিরভাগ এটিএম কাউন্টারই বর্তমানে শুধুমাত্র সিসিটিভি ক্যামেরায় ভরসা করেই চলছে। সেক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি আদৌ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

- Advertisement -

শহরবাসীদের অনেকে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কাউন্টারগুলিতে দু-তিনজন গ্রাহক একবারে ঢুকে পড়ছেন। সেক্ষেত্রে কাউন্টারে আদৌ কতটা নিরাপত্তা বজায় থাকবে, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্য ব্যাংক কর্তপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন গ্রাহকরা। অনেকেই জানান, হাতেগোনা কয়েকটি এটিএম ছাড়া বাদবাকি এটিএমগুলি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই চলছে। শহরের শিলিগুড়ি রোড সংলগ্ন বেশ কিছু এটিএমেই নিরাপত্তারক্ষী নেই। এছাড়াও, বাজার এলাকা, সিলভার জুবিলি রোড, জেনকিন্স স্কুলের মোড় সহ বিভিন্ন এটিএমই রক্ষীবিহীন।

শহরের বাসিন্দা সৌরভ দত্ত বলেন, শহরের হাতেগোনা দু-একটি এটিএমে রক্ষী থাকলেও বেশিরভাগেই নিরাপত্তারক্ষী নেই। গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। আরেক গ্রাহক মণিকা বণিক বলেন, এর আগেও কোচবিহারে এটিএম লুটের চেষ্টার খবর শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাউন্টারগুলিতে কোনও রক্ষী রাখা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তারক্ষী রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে লিড ব্যাংকের এক আধিকারিক বলেন, নিরাপত্তারক্ষী দিলেই যে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে এমনটা নয়। আপাতত এটিএমগুলিতে সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট আছে। পাশাপাশি, প্রতিটি এটিএমেই সিসিটিভি ক্যামেরাও রয়েছে।