শিলিগুড়ি কলেজে পড়া কম আড্ডা বেশি, ক্ষোভ পড়ুয়াদের মধ্যেই

432

রাহুল মজুমদার  শিলিগুড়ি : কলেজ না পার্ক তা বোঝা দায়। শ্রেণিকক্ষের চেয়ে মাঠে ভিড় বেশি। কলেজ ইউনিফর্মেই দিব্যি মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। অনেকসময় বহিরাগত বন্ধুদেরও ডেকে নিচ্ছে কলেজ মাঠে। আর ইউনিয়নের কর্মী পরিচয়ে যে কেউ অবাধে ঢুকে পড়ছে কলেজে। গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিতে গেলে তাঁর কপালে গালিগালাজ জুটছে। সোমবার যেমন তৃণমূলের এক রাজ্যস্তরের নেতাকে নিয়ে কলেজে হইহুল্লোড় করল বহিরাগতরা। কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে গিয়ে চেয়ারে বসে কথাও বলেন তাঁরা। বর্তমানে এমনই হাল শিলিগুড়ি কলেজের।

কলেজে ক্লাসের চাইতে যে মাঠে আড্ডা বেশি হচ্ছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন ছাত্র সংসদের নেতারা। একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে বলে কোনও লাভ না হওয়ায় এনিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ভাবছে ছাত্র সংসদ। শিলিগুড়ি কলেজের ছাত্র সংসদের সদ্য প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা টিএমসিপি নেতা অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। কলেজে অনেক সময় ক্লাস হয় না। একাধিকবার আমরা কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছি। স্মারকলিপি দিলে দুদিন ঠিকমতো ক্লাস হয়, আবার একই পরিস্থিতি। কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করলে তারা বলছে কোনও শিক্ষক ছুটিতে, কেউ অসুস্থ। কিছুদিনের মধ্যে কলকাতায় য়াওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব। যদিও কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সুজিত ঘোষের দাবি, যে সময় ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস থাকে না তখন তারা মাঠে বসে। এসএফআই আবার এক্ষেত্রে কলেজের অধ্যক্ষের পাশাপাশি ছাত্র সংসদকেও দাযী করেছে। দার্জিলিং জেলা এসএফআইয়ের যুগ্ম সম্পাদক অভিজিত্ চন্দ বলেন, কলেজে বহিরাগতরা দাপিয়ে বেড়ায়। ছাত্র সংসদের নেতা পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পুলিশ থেকে শুরু করে কলেজ কর্তৃপক্ষ সকলকেই বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। শিলিগুড়ি কলেজে দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাস হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে ছাত্র সংসদ। বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার কলেজের অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছে।

- Advertisement -

অভিযোগ, বেশিরভাগ দিনই বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ থাকছে একাধিক ক্লাস। ফলে মাঠে এসে বসে আড্ডা দিচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে আড্ডায় যোগ দিচ্ছে বহিরাগতরা। বিভিন্ন সময়ে ছাত্র সংসদের সদস্য পরিচয় দিয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকে পড়ছে তারা। আবার দুপুর দুটোর পর কমার্স কলেজের জন্যে কলেজের গেট খুলে যীওয়ায় বহিরাগতরা অবাধে ভিতরে ঢুকছে। শুধু তাই নয়, তাদের অনেকে বাইক নিয়ে কলেজের ভেতরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই বহিরাগতদের মধ্যে কয়েকজন শাকসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতারাও রয়েছে। চার থেকে পাঁচ বছর আগে কলেজ থেকে বেরিয়ে গেলেও এখনও নিজেদের কলেজের ছাত্র সংসদের সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা কলেজে ঘুরছে।

কলেজ সূত্রে খবর, নিরাপত্তারক্ষীকে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে  বহিরাগতদের যেন কলেজে ঢুকতে না দেওয়া হয়। কিন্তু কলেজে গিয়ে দেখা গেল, নিরাপত্তারক্ষী বাধা দেওয়ায় তাঁকে হুমকি দিয়ে ভিতরে ঢুকছে বহিরাগতরা। কলেজে বহিরাগতদের আটকাতে ড্রেস কোড চালু হলেও তা যে কোনও কাজে আসেনি, সেটা স্পষ্ট। এদিকে মাঠে বসে থাকা ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করতেই তাদের জবাব, ক্লাস না হলে ক্লাসঘরে বসে কী করব। শীতকাল, তাই মাঠে এসে বসে আছি। তবে শিক্ষকদের এক অংশের দাবি, বেশিরভাগ সময় ক্লাস হলেও ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনেকটাই কম থাকে। বিষয়টি নিয়ে কলেজেরই তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রেশমা আনসারির বক্তব্য, কলেজে কোনও শৃঙ্খলা নেই। ক্লাস করতে এলে শিক্ষকরা আসেন না, আবার শিক্ষকরা এলে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে যায় না। মাঠেই আড্ডা চলে। আর বহিরাগতদের দাপট তো বলার নয়। যারা দীর্ঘদিন আগে কলেজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে তারা অবাধে কলেজে ঢুকছে। তাদের জন্যে কোনও আইন বা নিয়ম নেই। যত নিয়ম পড়ুয়াদের উপরে লাগু হয়। বিএডের ছাত্রী মৌমিতা পাল বলেন, কলেজের পাশ দিয়ে গেলে দেখা যায় ছাত্রছাত্রীরা সবসময় মাঠেই থাকে। তার উপরে মাঠের চারদিকে বসার জায়গা বানিয়ে দেওয়ায় সবাই গিয়ে সেখানে বসে। এটা কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। চাকরিপ্রার্থী অভিনিশা দত্ত বলেন, শিলিগুড়ি কলেজ একসময় পড়াশোনায় এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন পড়াশোনা থেকে আড্ডা ও রাজনীতি বেশি হয়। বিষয়টির উপরে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। নয়তো কলেজের বদনাম হচ্ছে।