জটিল রোগে আক্রান্ত মোস্তফা, অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা

233

চাঁচল: এক নয়, একাধিক অসুখ বাসা বেঁধেছে বছর ৩৫-এর দিনমজুর মোস্তফার শরীরে। চাঁচল-২ ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কালিগঞ্জের বাসিন্দা মোস্তফার দুই পা ফুলে যাওয়ায় বন্ধ হাঁটাচলা। এছাড়াও ফুলে গিয়েছে পেট, পুরুষাঙ্গ। সেই সঙ্গে গলব্লাডারে পাথর। একে একে নষ্ট হয়েছে দু’টি কিডনিও। এই পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় দিনমজুর পরিবারের সদস্য়রা। অন্যদিকে, স্বামীর চিকিৎসার স্বার্থে সাহায্যের আর্জি তুলে ধরেছেন মোস্তফার স্ত্রী সানো বিবি।

জানা গিয়েছে, মাস দেড়েক আগে মুম্বই থেকে বাড়ি ফেরেন মোস্তফা। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে চিকিৎসার জন্য মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পরিবারের তরফে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে মোস্তফাকে মালদা সদরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এগারোদিন চিকিৎসা চলে। পরবর্তীতে সেখানকার চিকিৎসকরা কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অর্থ সামর্থ্য না থাকায় তা সম্ভব না হওয়ায় মোস্তফাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন তাঁর স্ত্রী। তবে, শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হওয়ায় দিনকয় বাদে মালদার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অভিযোগ, নার্সিংহোমের তরফে স্পষ্ট জানানো হয় স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নয়, চিকিৎসার স্বার্থে প্রয়োজন নগদ অর্থ। এই পরিস্থিতিতে ফের মোস্তফাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। থমকে চিকিৎসা। অন্যদিকে, সংসার চালাতে প্রতিবেশীদের কাছে হাত পাতছেন মোস্তফার স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিপিএল তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কোনও সুবিধে মিলছে না। তাঁর কথায়, স্বামীর ওষুধ শেষ হয়ে গিয়েছে। টাকার অভাবে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার অভাবে স্বামীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

- Advertisement -

জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মাসতারা বিবি জানান, পঞ্চায়েতের তরফে ওই পরিবারকে শীঘ্রই সবরকম সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে, চাঁচল-২ এর বিডিও দিব্যজোতি দাসও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসিও।