বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে চট্টগ্রামে

- Advertisement -

ঋদ্ধিমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশের বন্দর শহর চট্টগ্রামের কথা বললেই প্রথমেই মনে আসে মাস্টারদা সূর্য সেনের কথা। এখনও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে মাস্টারদার স্মৃতি। আরও এক কারণে চট্টগ্রাম বিখ্যাত, তা হল দুর্গাপুজো। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দুর্গাপুজো হয় চট্টগ্রামে। এই বছর করোনা আবহে কড়াকড়ি সত্ত্বেও এবার চট্টগ্রাম শহর ও বিভাগ মিলিয়ে ৪,১৪২টি পুজোর আয়োজন হচ্ছে। শেষবেলায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদরঘাট কালীবাড়ি সহ প্রতিটি কুমোরটুলিতেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু রঙের শেষ আঁচড় ও সাজানোর কাজ বাকি। বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শ্যামলকুমার পালিত জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অঞ্জলি সহ পুজোর সব আয়োজন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের দেওয়ানজি পুকুরপাড়ে ঐতিহ্যবাহী দত্তাত্রেয় আখড়ায় প্রতিমাশিল্পী সুনীলচন্দ্র পালের কারখানা রয়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন সুনীলবাবু। এখন ভাই রতনচন্দ্র পালের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা সামলান। কলকাতার বেলেঘাটায় সুনীলবাবুর বাবা রাধেশ্যাম পালের প্রতিমার কারখানা ছিল। সুনীলবাবুর বড় মামা কলকাতার অন্যতম সেরা ভাস্কর রমেশচন্দ্র পাল। সুনীলবাবু জানান, এবার করোনায় প্রতিমার সংখ্যা না কমলেও প্রতিমার আকার ছোট হয়েছে। চট্টগ্রামের সব পুরোনো পুজো কমিটির প্রতিমা সুনীলবাবুর কারখানাতেই তৈরি হয়। প্রতিমার আকার কমায় দামও কমেছে। তবে করোনার মধ্যেও পুজোর সংখ্যা না কমায় তিনি আশ্বস্ত রয়েছেন বলে জানান সুনীলবাবু।

করোনায় যেমন পুজোর সংখ্যা কমেনি তেমনই কমেনি চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের কেনাকাটার ধুম। চট্টগ্রামের অনেক দোকানে ঢোকাই কঠিন। কিছু দোকানে সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। অনেক জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি ক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের ভিড় দেখে দোকানদারদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাসন্তী সরকার বলে এক ক্রেতা জানান, পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা শেষ। কিছু বাকি থাকলে পুজোর আগে আবার আসবেন। শ্যামলকুমার পালিত বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে যে ৪,১৪২টি পুজোর আযোজন হচ্ছে, তার মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে ২৫৪টি পুজো হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলায় হচ্ছে ১,৫২৭টি পুজো ও চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য জেলাগুলিতে ২,৩৬১টি পুজো হচ্ছে। শ্যামলবাবু আরও বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে সবরকম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পুজোর আয়োজকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা অবনতির কোনও আশঙ্কা নেই।

- Advertisement -