অমিল বিধবা ভাতা, অসহায়ভাবে দিন কাটছে মা ও মেয়ের

241

সামসী: মানসিক ভারসাম্যহীন বিধবা মাকে নিয়ে অসহায়ভাবে ভাঙাচোরা একটি মাটির ঘরে বাস করছেন বিধবা মেয়ে। মা লুফন বেওয়া(৬৫), মেয়ে তাসলিমা বেওয়া(৪০)। দুই বিধবা মা ও মেয়ের বাড়ি রতুয়া-২ ব্লকের সম্বলপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একডালিয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একডালিয়া গ্রামের লুফন বেওয়ার স্বামী নিয়াজুদ্দিন প্রায় ২০ বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলে বিয়ের পরই আলাদা থাকেন। মেয়ে তাসলিমার বিয়ে হয়েছিল শ্রীপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রানিনগর গ্রামে। কিন্তু বিয়ের কয়েকবছর পর কন্যা সন্তানসহ স্বামী ডিভোর্স করে দেন তাসলিমাকে। তারপর থেকেই মায়ের কাছেই থাকেন তিনি।

তাসলিমা বেওয়া জানান, বাবার কয়েক শতক জমির ওপর একটি ভাঙাচোরা মাটির বাড়ি রয়েছে। বৃষ্টি হলে জল পড়ে। সেখানেই মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে নিয়ে থাকেন। ছেলেদের অবর্তমানে লুফন বেওয়ার দেখভালের দায়িত্ব এখন বিধবা মেয়ে তাসলিমার। মাঝে মধ্যে লুফন বেওয়া গ্রামে ভিক্ষে করে। কিন্তু এখন বয়স হয়েছে। আর ভিক্ষে করতে পারেন না। তিনি হাঁস-মুরগি, ছাগল পালন করে মাকে নিয়ে কোনওরকম দিন কাটাচ্ছেন।

- Advertisement -

তাসলিমা বেওয়া জানান, রেশনের চাল পান। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে। কিন্তু বাংলা আবাস যোজনার একটি পাকা ঘর দরকার। মা লুফন বেওয়া বিধবা ভাতা পেতেন। কিন্তু প্রায় ৯ মাস ধরে ভাতা বন্ধ রয়েছে। তাসলিমা বেওয়ার নিজের বিধবাভাতা হয়নি এখনও। ভাতার জন্য কয়েকবার আবেদন করেছেন। কিন্তু তা আজও চালু হয়নি।বিধবাভাতা ও একটি পাকা ঘরের জন্য মেম্বার, প্রধানদের জানিয়েও কোনও লাভ হয় নি। নিজের ভাতা চালু হয় নি। এদিকে, মায়ের ভাতাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। মায়ের জন্য প্রতি মাসে মোটা টাকার ওষুধ লাগে। টাকার অভাবে ওষুধ কিনে দিতে পারেন না। তাই চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে দুই বিধবা মা ও মেয়ে। সরকারি সাহায্যের আশায় প্রহর গুনছেন।

একডালিয়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য বিলকিস নাহার বলেন, ‘দুই অসহায় বিধবা মা ও মেয়ে একটি পাকা ঘর পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। তাঁরা যাতে একটি পাকা ঘর পান সে বিষয়টি পঞ্চায়েত প্রধানকে বলা হয়েছে। সম্বলপুর গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান সাবিনা খাতুন বলেন, ‘তাঁরা যাতে একটি পাকা ঘর পান সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। দুই বিধবা মা ও মেয়ের বিধবা ভাতার বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানানো হবে। যাতে খুব শীঘ্রই চালু হয়।’

রতুয়া-২ বিডিও সোমনাথ মান্না বলেন, ‘বাংলা আবাস যোজনার পাকা ঘর গরীব মানুষদের জন্যই। তাঁরা কেন এতদিন পাকা ঘর পাননি তা প্রধানের কাছ থেকে খোঁজ নেবেন। লুফন বেওয়ার বিধবা ভাতা আটকে থাকার কথা নয়। তবুও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান। এদিকে, তাসলিমা বেওয়া দুয়ারে সরকারে যথাযথ কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করলেই বিধবা ভাতা চালু হওয়ার কথা।’