বেপরোয়া গতির ট্র্যাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু মা ও মেয়ের

98

বর্ধমান: ‘সেফ ড্রাইভ -সেভ লাইভ’ কর্মসূচীকে সামনে রেখে সচেতনতা প্রচার জারি রেখেছে প্রশাসন। তবুও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বেপরোয়া গতি। শনিবার তারই মাশুল দিতে হল মা ও মেয়েকে। বেপরোয়া গতির ট্র্যাক্টরের ধাক্কায় মৃতরা হলেন চন্দনা বাগ (২৫) ও কেয়া বাগ (৭)। তাদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ডাঙ্গাল গ্রামে। এদিন দুপুরে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি এদিন ঘটেছে জেলার গুসকরা শহরের নিউটাউন মোড় এলাকায়। ঘটনার জেরে এদিন বর্ধমামান শিউড়ি-২(বি) জাতীয় সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি ঘাতক ট্র্যাক্টর আটক করে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের ডাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত মাঝি। তিনি তাঁর ভাইজি চন্দনা বাগ ও ভাইজির মেয়ে কেয়া বাগকে বাইকে চাপিয়ে নিয়ে গুসকরা যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী লাল মহম্মদ শেখ জানিয়েছেন, বর্ধমান-শিউড়ি রোডে পিছন দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির ট্র্যাক্টর বাইক আরোহীদের সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন মা ও তাঁর মেয়ে।  স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠায়।

- Advertisement -

এই দুর্ঘটনা জেলাবাসীকে মনে করিয়ে বিয়েছে মাসখানেক আগে জেলার জামালপুরের জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের মুইদিপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা। বেপরোয়া ভাবে চলা ওভারলোড বালির লরি একটি বাড়িতে উল্টে পড়ায় মৃত্যু হয়েছিল বছর ৩০-এর গৃহবধূ সন্ধ্যা বাউরি এবং তাঁর ছেলে মেয়ে রিঙ্কু বাইরি ও রাহুল বাউরির। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঘটনাস্থল। তার পরেও হুঁশ ফেরেনি যানবাহন চালকদের। লাগাম পরানো যায়নি বেপরোয়া গতিতে। এদিন গুসকরায় হওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আরও জোরালো হয়েছে বেপরোয়া গতির যানবাহন চলকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।