পণের দাবিতে মা-মেয়ে খুন, কাঠগড়ায় শ্বশুরবাড়ি

243

চাঁচল: পণের দাবিতে মা ও মেয়েকে খুন করে মহানন্দা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। রবিবার মহানন্দা নদী থেকে এক শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার হয়। সোমবার খরবার আশাপুর এলাকা থেকে এক মহিলার ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গতকালের শিশুটি ও এদিনের মহিলাটি সম্পর্কে মা ও মেয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম প্রিয়া পারভিন(২৩) ও মৃত শিশুকন্যাটির নাম সেমি পারভিন(৩)। দুজনেরই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু কন্যা ও মহিলার দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

উল্লেখ্য, গতকাল মহানন্দা নদীতে একটি শিশুকন্যার দেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন চাঁচল থানার পুলিশকে। চাঁচল-১ ব্লকের মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাটোট এলাকায় গিয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে চাঁচল থানায় নিয়ে যান। কাল শিশুটির পরিচয় মেলেনি। এদিন সকালে আশাপুর ডুমরাল ঘাট এলাকা এক মহিলার দেহ উদ্ধার করে চাঁচল থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মা ও মেয়েকে সম্ভবত খুন করে মহানন্দা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটাহার বিধিবাড়ি গ্রামের গৃহস্থ পরিবারের মেয়ে প্রিয়া পারভিনের চার বছর আগে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের গরাহার গ্রামের সামিউল্লাহ সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু কয়েকমাস পর বাপের বাড়ি থেকে আরও পণের জন্য চাপ দেন সামিউল্লাহ। টাকা আনতে প্রিয়ার ওপর তাঁর স্বামী শারীরিক অত্যাচারও চালাত বলে অভিযোগ। প্রিয়া বাপের বাড়ি গিয়ে অতিরিক্ত পণের কথা জানান। মেয়ের দাদু খলিল মাহমুদ বলেন, ‘নাতনির সুখের কথা ভেবে জমি জায়গা বিক্রি করে নাতনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ লক্ষ টাকা জমা করে রেখেছিলাম। টাকার জন্য খুব চাপ দেওয়ায় প্রিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকা তুলে নাত জামাইকে খুশি করার জন্য দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রিয়া ও তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে তাঁর স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজন মহানন্দা নদীতে ভাসিয়ে দেন।’

অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ইটাহার থানায় প্রিয়ার স্বামীর ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন চাঁচল ও ইটাহার থানার পুলিশ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রিয়ার স্বামী মহম্মদ সামিউল্লাহ সরকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ইটাহার থানার পুলিশ।