হিমুলের দায়িত্ব ছাড়তে চায় মাদার ডেয়ারি

549

শিলিগুড়ি :  অনেক আশা দেখিয়ে হিমুল অধিগ্রহণ করেছিল মাদার ডেয়ারি। কিন্তু চার বছর না পেরোতেই হাঁপিয়ে গিয়েছে ওই সংস্থা। এখন হিমুলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছে রাজ্য সরকারেরই অধীনস্থ সংস্থা মাদার ডেয়ারি। কিন্তু কেন এই পথে এগোচ্ছে মাদার ডেয়ারি? সূত্রের খবর, ধুঁকতে থাকা হিমুলকে যেভাবে দাঁড় করানোর চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা হয়েছিল তার কোনও বাস্তবায়নই করা যায়নি। এমনকি উৎপাদনও কমতে কমতে দৈনিক চার হাজার লিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রচুর চাহিদা থাকলেও অন্যান্য কোনও পণ্যও বাজারে দিতে পারছে না মাদার ডেয়ারি। বিষয়টি নিয়ে মাদার ডেয়ারি কর্তৃপক্ষের তরফে কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

বাম আমল থেকেই প্রচণ্ড আর্থিক সংকটে ধুঁকছিল হিমুল দুগ্ধ প্রকল্প। অত্যন্ত লাভজনক একটি দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং এর সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে বছরের পর বছর বহু প্রশ্ন উঠেছে। ফলে প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও আর্থিকভারে জেরবার হয়ে রাজ্য সরকার হিমুল দুগ্ধ প্রকল্প অন্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সালে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর মাদার ডেয়ারির হাতে হিমুল ডেয়ারি হস্তান্তর করা হয়। সেদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেছিলেন, অনেক আশা নিয়ে মাদার ডেয়ারির হাতে হিমুলকে তুলে দেওয়া হল। হিমুলে যেভাবে চুরি হয়েছে তা যেন মাদার ডেয়ারিতে না হয়। এই ডেয়ারি যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা মেটাতে পারে সেই দাবি রেখেছিলেন মন্ত্রী। অর্থাৎ ব্যাপক হারে আর্থিক নয়ছয় এবং চুরির জেরেই যে হিমুল দুগ্ধ প্রকল্প মানুষের চাহিদা পূরণে সমর্থ হয়নি তা স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেই মাদার ডেয়ারি কর্তৃপক্ষ অনেক আশা দেখিয়েছিল। শুধু শিলিগুড়ি নয়, গোটা উত্তরবঙ্গেই মানুষের চাহিদামতো দুধ পৌঁছে দেওয়া, পাশাপাশি ঘি, দই, পনির, প্যাঁড়া সহ সংস্থার সমস্ত পণ্যই উত্তরবঙ্গের বাজারে পাওয়া যাবে এবং সেগুলি মাটিগাড়ার এই প্রকল্প থেকেই তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপর প্রথম কিছুদিন বাজারে ১০-১১ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করেছিল মাদার ডেয়ারি। কিন্তু গত চার বছরে তা কমতে কমতে চার হাজার লিটারে এসে ঠেকেছে। অন্য কোনও পণ্যই বাজারে আনতে পারেনি এই সংস্থা। এমনকি দার্জিলিং পাহাড় এবং সমতলের যে চিলিং প্ল্যান্টগুলি রয়েছে, সেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না। যে সমস্ত কৃষক রয়েছেন তাঁদের কাছেও এখন আর দুধ নেওয়া হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অপর একটি সরকারি ডেয়ারি থেকে এখানে যেটুকু দুধ আসছে তা শুধুমাত্র প্যাকেটবন্দি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী দুধের জোগান অনেক কম, প্যাকেজিং ভালো না হওয়ায় দুধ নষ্ট হচ্ছে, প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে বিক্রেতাদের, অথচ সংস্থা তা মানতে না চাওয়ায় বাজারেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এজেন্টরা বেসরকারি ডেয়ারির দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থাত্ হিমুল অধিগ্রহণের পর থেকেই সঠিক পরিকল্পনার অভাবে মাদার ডেয়ারি এই প্রকল্পকে চালাতে পারছে না। মাটিগাড়ার প্রকল্প ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতায় সংস্থার আধিকারিকরা কয়েক দফায় আলোচনা করেছেন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের ঘরেও এই প্রস্তাব পৌঁছে গিয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরে নির্ভর করছে। পরিস্থিতি টালমাটাল হওয়ায় সংস্থার কর্মীদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, সঠিকভাবে চালাতে পারলে এই সংস্থা লাভের মুখ দেখতে পারত। অনেক আশা নিয়ে সরকার হিমুলকে মাদার ডেয়ারির হাতে দিয়েছিল। হিমুলের অনেক কর্মীকে সরকারি দপ্তরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সরকার সরকারের কাজ করেছে। এখন মাদার ডেয়ারি কী চাইছে দেখে সরকার নিশ্চয়ই কোনও ব্যবস্থা নেবে।

- Advertisement -