কাঁটাতার পেরিয়ে মা দুর্গা হেমকুমারী গোলাপাড়া গ্রামে আসছেন

316

মেখলিগঞ্জ: করোনা পরিস্থিতিতেও কাঁটাতার পেরিয়ে মা দুর্গা আসছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা গোলাপাড়া গ্রামে। অবশ্য গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাঁটাতারে ৫৬ হেমকুমারি গোলাপাড়া গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থা সংকটজনক। এ কারণে দু’বছর আগে পর্যন্ত মা দুর্গাকে এলাকায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। এবার তার উপর করোনা পরিস্থিতি তাদের আরও খারাপ পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। তাই দুর্গাপুজো করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য, অর্থাভাবের জন্য কোনওদিন দুর্গাপুজো হয়না। এই খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদে পড়ে ২০১৮ সালে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার ব্যবসায়ী দিব্যেন্দু ধর এবং তারই বন্ধু আলিপুরদুয়ারের নিউটাউন এলাকার ব্যবসায়ী স্বরূপ করের হাত ধরে এই গ্রামে প্রথম দুর্গা মায়ের আগমন ঘটে।

গত বছরও তাদের বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতায় এই গ্রামে দুর্গাপুজো হয়। গ্রামের মানুষও কিছু জোগাড় করে বড় মাপের পুজোতেই সামিল হয়েছিলেন। কিন্তু এবার করোনাকালে অনেকেরেই কর্মহীন অবস্হা। বাইরে থেকে কেউ সাহায্যের হাত বাড়ি দেবেন কিনা সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এই অবস্থায় দুর্গাপুজোর মতো বড় পুজোর আয়োজন নিজেদের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয় এই আশঙ্কা করে অনেকেই এটা নিয়ে আলোচনা করারই সাহস দেখাচ্ছিলেন না। এ কারণে একাংশের মন খারাপও হয়েছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এবারও এলাকায় দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জন রায় বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার দুর্গাপুজো করা নিয়ে খুব চিন্তা ছিল। কারণ এবার আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ। তবুও যেভাবেই হোক মা দুর্গাকে সকলে মিলে গ্রামে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও শেষ অবধি খরচ কতটা জোগাড় করতে পারব সেটার নিশ্চয়তা নেই।

- Advertisement -

এবারও তারা বাইরের মানুষের সাহায্যের আশায় গ্রামের আর্থিক অবস্থা দুর্বলের কারণে বাম আমলে সরকারি তরফে “অনুন্নত গ্রাম” হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছিল। বাসিন্দাদের বক্তব্য “দুর্গাপুজো খরচ অন্যান্য পুজোর অনুষ্ঠানের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই খরচ কোথা থেকে আসবে সেটাই ভাবতে পারেননি গ্রামবাসী। তাই মা দুর্গাকে গ্রামে নিয়ে আসার জন্য ইতিপূর্বে কয়েকবার কয়েকজন এগিয়ে আসলেও শেষমেষ পিছিয়ে এসেছিলেন।