উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত খবরের জের, আট বছর পর হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা

106

শামুকতলা : উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত খবর ও ছবির জেরে আট বছর পর মা খুঁজে পেলেন তাঁর হারানো ছেলেকে। আট বছর আগে কোচবিহার জেলার ধলপল এলাকার ভোলা হরিয়ানায় কাজ করতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলেকে খুঁজে পাননি মা দুর্গা দাস। আট বছর পর করোনাই মিলিয়ে দিল মা-ছেলেকে। তবে তা উত্তরবঙ্গ সংবাদের সৌজন্যে। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের একটি কোয়ারান্টিন সেন্টারে মা-ছেলের মিলন হল।

আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ভাটিবাড়ি ইস্টার্ন ডুয়ার্স বিএড ট্রেনিং কলেজে ২২ দিন ধরে কোয়ারান্টিনে ছিলেন বছর ২০র এক যুবক। নাম ঠিকানা বলতে না পারায় ওই যুবককে নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়েছিলেন প্রশাসনের কর্তারা। কোয়ারান্টিনের বাকি সদস্যরা বাড়ি চলে যেতে পারলেও ওই যুবকের বাড়ি ফেরা হয়নি। হিন্দিভাষী যুবকটি নিজের নাম ও বাবার নামটি শুধু ঠিকভাবে বলতে পারছিল। বাড়ির ঠিকানাও বলতে পারছিল না। শুধু বলছিল দুর্গাবাড়িতে তাঁর বাড়ি। সেখানে একটা স্কুল আছে। যুবকটি  জানান, দিল্লিতে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। দিল্লি স্টেশনে তাঁর টাকা, কাগজপত্র, মোবাইল সব চুরি হয়ে যায়। যুবকটিকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য দপ্তর উত্তরবঙ্গ সংবাদের সহযোগিতা চায়। গতকাল উত্তরবঙ্গ সংবাদে সেই খবর প্রকাশিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে উত্তরবঙ্গ সংবাদের সেই খবর প্রচুর শেয়ার হয়। উত্তরবঙ্গ সংবাদের সেই খবরের জেরেই  হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন দুর্গাদেবী। কোচবিহার ধলপল এলাকার বাসিন্দা দুর্গাদেবী বলেন, পাড়ার একজন আজ সকালে বলে তোমার ছেলের খবর ছাপা হয়েছে উত্তরবঙ্গ সংবাদে। খবরে ছেলের ছবি দেখে চিনতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে কাগজপত্র নিয়ে যাই কোয়ারান্টিন সেন্টারে। সেখানে ছেলেকে ফিরে পাই। তিনি জানান, আট বছর আগে তাঁর স্বামী গত হন। দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েন। আর্থিক দুরবস্থার জন্য ভোলাকে তার এক দাদার সঙ্গে হরিয়ানায় কাজ করতে পাঠানো হয়। সেখানে মালিকের সঙ্গে ঝগড়া করে ভোলা অন্য কোথাও চলে যায়। তখন থেকে আর ভোলার খোঁজ পাওয়া য়ায়নি। ছেলেকে খুঁজে পেয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে ধন্যবাদ জানান দুর্গাদেবী।

- Advertisement -

এত বছর পর মাকে পেয়ে খুব খুশি ভোলা। হরিয়ানায় থাকতে থাকতে বাংলা একদম ভুলে গিয়েছেন তিনি। হিন্দিতে ভোলা বলেন, মায়ের জন্য মন খুব খারাপ লাগত। বাড়ি আসার কোনও সুযোগ ছিল না। লকডাউনে মালিক কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেয়। সেখান থেকে দিল্লিতে চলে আসি। কিন্তু ওখানে আমার সব চুরি হয়ে যায়। পরে শ্রমিক ট্রেনে কোচবিহার আসি। সেখান থেকে আমাকে হাসিমারা পাঠানো হয়। ওখান থেকে ভাটিবাড়ি কোয়ারান্টিন সেন্টারে আসি। আমার শুধু দুর্গাবাড়ি নামটা মনে ছিল।  এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের বিএমওএইচ মানু এক্কা বলেন, ছেলেটি বাড়ির ঠিকানা না বলতে পারায় খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। তাই উত্তরবঙ্গ সংবাদের সাহায্য চাই। উত্তরবঙ্গ সংবাদের জন্য মা-ছেলের মিলন হল। এর জন্য উত্তরবঙ্গ সংবাদকে অসংখ্য ধন্যবাদ।