ন্যায় বিচার চান মল্লারপুরে মৃত নাবালকের মা

497

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: ছেলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার চাইলেন মল্লারপুরে মৃত নাবালকের মা। রবিবার বাম সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চ এবং সারাভারত দলিত শোষণ মুক্তি মঞ্চের প্রতিনিধিদের কাছে বিচারের আবেদন জানান মা ভাদুরি মেহেনা। তবে নাবালক আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের মনগড়া বলে বিরোধীদের দাবি।

গত বৃহস্পতিবার পুলিশ হেপাজতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় শুভ মেহেনা (১৪) নামে এক নাবালকের। ওই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘটনার পর থেকে নাবালকের বাবা-মাকে নিয়ে লুকোচুরি খেলে পুলিশ ও শাসক দল। এমনকি মৃতদেহ গ্রামে পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রামপুরহাট মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে সরাসরি পৌঁছে যায় তারাপীঠ শ্মশানে।

- Advertisement -

রবিবার দুপুরে নাবালকের মল্লারপুরের বাউড়িপাড়ার বাড়িতে পৌঁছে যান বাম সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক অলোকেশ দাস এবং সারাভারত দলিত শোষণ মুক্তি মঞ্চের সর্বভারতীয় সম্পাদক রামচন্দ্র ডোম। তাঁরা মৃত নাবালকের বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন। এক সময় তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ভাদুরি মেহেনা। তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ছেলের মুখ দেখতে দেওয়া হয়নি। আমি ছেলের মৃত্যুর বিচার চাই।’ তবে বাবা গণেশ মেহেনা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন ক্যামেরার সামনে। কখনও বলেন, ‘থানার মধ্যে ছেলেকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখেছি।’ আবার কখনও বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে ইলেকট্রিকের তার জড়ানো অবস্থায় দেখেছি।’

রামচন্দ্র ডোম বলেন, ‘নাবালকের বাবা-মা’র শারীরিক ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছে পুলিশ ও শাসক দল তাঁদের কতটা চাপে রেখেছে। তাঁরা আতঙ্কে মনের ভাবটুকুও প্রকাশ করতে পারছে না। তাঁদের মনের ভিতরের কথা আলাদা। আর বাইরের কথা আলাদা। বাবার যা বক্তব্য তাতে সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাই। কারণ পুলিশ হেপাজতে আত্মহত্যা খুনের সমান। এটা পুলিশ আইন এবং মানবাধিকার কমিশনের গাইডলাইনে পরিষ্কার বলা রয়েছে। তাছাড়া কোনও নাবালক আনন্দে আত্মহত্যা করতে পারে না। নিশ্চয় তার উপর চরম চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেটাও খুনের সমান। আমাদের দাবি, তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে।’

অলোকেশ দাস বলেন, ‘কোনও বাবা-মা ছেলেকে চোর, নেশাগ্রস্ত বলতে পারেন না। ফলে তাঁরা কতটা চাপে রয়েছেন, তা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি। পুলিশ ও শাসক দলের কতটা চাপ থাকলে এটা বলা যায়, তা তাঁদের ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছে। যদিও তারমধ্যেই মা বলে ফেলেছেন বিচার চাই। পুলিশ আত্মহত্যার কোনও যুক্তি দেখাতে পারেনি।’

রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। থানায় কেন সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ ছিল, তা জানতে চেয়েছি। সেই সঙ্গে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, এরকম ঘটনা যেন দ্বিতীয়বার না ঘটে। ফরেনসিক দল ঘটনার তদন্ত করবে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে আত্মহত্যা।’

জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হলে কিছু বলা যাবে না।’